ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সামনে রেখে আগামী ২৭ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেট। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত এই তারিখে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে বর্তমান পার্লামেন্ট তাদের চার বছরের পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করতে যাচ্ছে। গত ৫০ বছরের মধ্যে এটিই প্রথম কোনো ইসরায়েলি সরকার, যারা নির্ধারিত মেয়াদের পুরো সময়জুড়ে ক্ষমতায় থাকতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সাথে সাথে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে তিনি আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। গত জুন মাসে তিনি তার প্রার্থিতার ঘোষণা দেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশের ভেতরে তার জনপ্রিয়তা এবং নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য একটি বিশাল অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
নেসেটের ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমান পার্লামেন্ট তাদের মেয়াদ শেষ করবে এবং সংসদ আগেভাগে ভেঙে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আগামী ১৭ জুলাই বর্তমান অধিবেশন শেষ হবে। এরপরই মূলত নির্বাচনী প্রচারণার ডামাডোল শুরু হবে। গাজা পরিস্থিতির পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় সংস্কার এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো ইস্যুগুলো এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহু সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার পক্ষের দাবি জাতীয় সংকট মোকাবিলায় নেতানিয়াহুই একমাত্র কার্যকর নেতা। সব মিলিয়ে ২৭ অক্টোবরের এই নির্বাচন ইসরায়েলের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন