টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস-সংকট কাটিয়ে অবশেষে দেশের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। মহেশখালীতে থাকা এলএনজি আমদানির দুটি ভাসমান টার্মিনালের মধ্যে সামিট পুরোদমে এবং এক্সিলারেট এনার্জি আংশিক চালু হওয়ায় শনিবার ভোর থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে দুটি টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে সামিটের টার্মিনাল তার পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী এবং এক্সিলারেটের টার্মিনালটি আংশিক সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করছে। গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় সাধারণ গ্রাহক ও শিল্পখাত বড় ধরনের স্বস্তি পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই দেশে মারাত্মক গ্যাস ঘাটতি দেখা দেয়। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাসাবাড়ির রান্নাবান্না, কলকারখানার উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে। গ্যাস সংকটের কারণে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছিল। এক্সিলারেট টার্মিনালের দুটি বয়লারের মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপরটি দিয়ে গত ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। মাঝে শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ থাকলেও দ্রুত তা মেরামত করে শনিবার ভোরে পুনরায় চালু করা হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অপর বয়লারটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি এবং তা চালুর সময় ৭২ ঘণ্টা টার্মিনালটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হতে পারে।
অন্যদিকে, এলএনজি সংকটের কারণে সামিটের টার্মিনাল থেকেও গত সপ্তাহে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে শুক্রবার বিকেলে বঙ্গোপসাগরে এলএনজিবাহী জাহাজ পৌঁছানোর পর সামিট টার্মিনালে গ্যাস খালাস শুরু হয় এবং শনিবার ভোররাতের মধ্যে সরবরাহ বাড়িয়ে প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করা হয়।
বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও স্বাভাবিক সময়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। সাম্প্রতিক সংকটের কারণে গতকাল শুক্রবার দেশের মোট সরবরাহ ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে আসলেও, টার্মিনালগুলো চালুর পর তা বেড়ে এখন প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। যদিও স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় এখনো দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়ে গেছে, তবুও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পুরোপুরি মেরামত করা গেলে খুব দ্রুতই এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন