মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া তীব্র সংঘাতের মাঝেই এবার পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ (Strait of Hormuz)-র কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার (Apache Attack Helicopter) বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারটিতে থাকা মার্কিন পাইলটরা অলৌকিকভাবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও ‘ভালো’ আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) রাতে নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান। নিউ ইয়র্কে এনবিএ (NBA) ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড (TRT World) এই চাঞ্চল্যকর খবরটি নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (The New York Times) প্রথম এই দুর্ঘটনার খবরটি ব্রেকিং নিউজ হিসেবে প্রকাশ করে। তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক পয়েন্টে মার্কিন সেনাবাহিনীর ওই যুদ্ধ হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে, কোন মিশন পরিচালনার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনও বেশ অস্পষ্ট।
কূটনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে এই ঘটনার টাইমিং বা সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই সোমবার ইসরাইল এবং ইরান একে অপরের ওপর তীব্র ও বিধ্বংসী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। দুই আঞ্চলিক পরাশক্তির এই নতুন দফার পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে ইরান যুদ্ধের একটি ভঙ্গুর ও নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, তা চরম ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এমন এক চরম উত্তপ্ত ও রণমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন এই হেভি-ডিউটি হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর এলো।
তবে রণক্ষেত্রে গুঞ্জন উঠেছে, এই অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি কি ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কোনো চোরাগোপ্তা হামলায় ভূপাতিত হয়েছে, নাকি কোনো আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, অথবা বৈরি আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছিল সে বিষয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো তথ্য বা যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
এদিকে এই চরম সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর সামরিক ঘটনাটি নিয়ে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউস, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এবং মধ্যপ্রাচ্যের দায়িত্বে থাকা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাথে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে এই নতুন করে সংঘাতের পরও তেহরানের সাথে ওয়াশিংটনের ব্যাক-চ্যানেল আলোচনা এখনও ‘চলমান’ ও ইতিবাচক রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পেন্টাগন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন