ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে কোনো ধরনের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন ফিকে হয়ে আসায় বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে গত সোমবার মোটে ছয়টি জাহাজ পারাপার করতে পেরেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে। বিশ্বজুড়ে বহুল পরিচিত জাহাজ চলাচলের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রদান করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই উদ্বেগজনক চিত্রটি প্রকাশ করা হয়েছে।
কেপলারের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে যে, গত সোমবার সারা দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ ভেতরে প্রবেশ করতে পেরেছে। প্রবেশ করা এই জাহাজগুলোর মধ্যে দুটি ছিল সম্পূর্ণ খালি থাকা তেলজাত পণ্যবাহী ট্যাংকার। অন্যদিকে, ঠিক একই দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি ব্যবহার করে মাত্র দুটি জাহাজ বাইরে বের হতে সক্ষম হয়েছে। বের হওয়া এই দুটি জাহাজের একটির মধ্যে ছিল তুলনামূলক ছোট একটি ট্যাংকার যা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি বহন করছিল এবং অন্যটিতে ছিল অবশিষ্ট বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি।
বর্তমান এই করুণ চিত্রটি স্বাভাবিক সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই অঞ্চলে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সংঘাত শুরু হওয়ার আগে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়মিতভাবে অন্তত ১৩০ থেকে ১৪০টি ছোট-বড় জাহাজ নিরাপদে চলাচল করত। কিন্তু বর্তমানের চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সেই তুলনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জাহাজ চলাচল নাটকীয় ও আশঙ্কাজনক হারে কমে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
হরমুজ প্রণালির এমন চরম বিপর্যস্ত পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে পরস্পর সংযুক্তকারী কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তুলনামূলক স্বাভাবিক গতিতেই মোট ২৫টি জাহাজ চলাচল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিগত ১০ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এই জলপথটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪
মন্তব্য করুন