নগরীর উন্নয়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এই বাজেট উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেটও তুলে ধরা হয়।
বাজেটের মূল দিক: এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮২৫ কোটি টাকা। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক খাতে ধরা হয়েছে ৪৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। মেয়র তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আয় বাড়ানোর জন্য উন্নয়ন অনুদান হিসেবে ৯৭৫ কোটি টাকা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কর ও অভিকর খাত থেকে ৪২৬ কোটি টাকা এবং বকেয়া কর থেকে ১৯৭ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেনা কমানোর সাফল্য ও লক্ষ্য: দায়িত্ব গ্রহণের সময় চসিকের ৫৯৬ কোটি টাকা দেনার বোঝা ছিল জানিয়ে মেয়র বলেন, বর্তমানে সেই দেনার পরিমাণ কমে ৩৮০ কোটিতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ গত দেড় বছরে ২১৬ কোটি টাকা দেনা পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে। মেয়রের দৃঢ় অঙ্গীকার, দ্রুততম সময়ের মধ্যে চসিকের দেনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে।
চসিককে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ: নগরবাসীকে একটি আধুনিক, ক্লিন-গ্রিন ও পর্যটনবান্ধব নগরী উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে মেয়র কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার ঘোষণা দেন। অতীতে করা অযৌক্তিক গৃহকর পর্যালোচনার জন্য নিয়মিত রিভিউ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে করের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বন্দর, রেলওয়ে ও বড় কনটেইনার টার্মিনালগুলোর মতো করপোরেট সংস্থাগুলোকে অবশ্যই তাদের বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা: আগামী অর্থবছরে চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন চসিক মেয়র। এগুলো হলো: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতার উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদান, নতুন সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন এবং চসিকের কার্যক্রমে পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন বা ইআরপি (ERP) সফটওয়্যার প্রবর্তন।
বাজেট অনুষ্ঠানে চসিকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মেয়র জানান, চট্টগ্রাম নগরীর সামগ্রিক সেবার মানোন্নয়ন ও রাজস্ব আদায়ে কোনো আপস করা হবে না। এই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন একটি আর্থিক স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চট্টগ্রাম নগরীকে আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী বলে আপনি মনে করেন?
মন্তব্য করুন