সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত মুহূর্ত’র সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রথমে ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা ডিপফেক বলে দাবি করা হলেও, পরবর্তীতে সংসদ সদস্য নিজেই লিখিত বিবৃতি দিয়ে ভিডিওতে থাকা ১৮ বছর বয়সি মরিয়ম বেগমকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন।
লিখিত বিবৃতিতে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে গত ১৭ জুন তাঁদের বিয়ে হয়। আর ১৩ জুলাই মগবাজারে একটি ব্যবসায়িক কার্যালয়ে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ওই ভিডিও ধারণ করা হয়। তাঁর দাবি, চালক ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরে ওই চক্রটি কার্যালয়ে প্রবেশ করে তাঁকে হেনস্তা করে এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে ওই সিসিটিভি ফুটেজ এডিট করে বা বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমপির প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন এবং মরিয়মের বাবাও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই বিয়েকে বৈধ ও সাজানো ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তবে এই দাবির পর নতুন করে আইনি ও তথ্যগত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুগান্তরের হাতে আসা একটি বায়োডাটায় দেখা গেছে, দাবিকৃত বিয়ের ৫ দিন পর অর্থাৎ ২২ জুন তারিখেও ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ লেখা ছিল এবং ওই বায়োডাটায় এমপির নিজ স্বাক্ষর ও সুপারিশ রয়েছে। এ ছাড়া ৩ লাখ টাকা দেনমোহরের একটি কাবিননামা সামনে এলেও সমালোচকদের একাংশের ধারণা, ভিডিও ফাঁসের পর মান বাঁচাতে ব্যাকডেট দিয়ে কাবিননামা তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দলীয়ভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং সত্যতা সাপেক্ষে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন