শারদীয় দুর্গোৎসব ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট চার কোটি টাকা অনুদান চাইলেও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুই কোটি টাকা চেয়েছিল। তাদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তিন কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবছর শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অনুদান দেওয়া হয়। এবার সেই বরাদ্দ এক কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব মধু পূর্ণিমা বা ভাদ্র পূর্ণিমা উপলক্ষে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্যও চাহিদার তুলনায় এক কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটিও এক দিন বাড়ছে। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহা নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে সাধারণ ছুটি রয়েছে। আগে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার কর্মদিবস থাকার কথা থাকলেও ওই দিনও নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর পরের দুই দিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন।
সরকারি ছুটির দিনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সাধারণত বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কিছু শাখা বা বিশেষ সেবা চালু থাকতে পারে। এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাও সাধারণত চালু থাকে।
অন্যদিকে হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। গণমাধ্যমসহ প্রয়োজনীয় কিছু প্রতিষ্ঠানেও কর্মীদের দায়িত্বে থাকতে হতে পারে।
দুর্গাপূজাকে ঘিরে টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকায় হিন্দুধর্মাবলম্বীদের উৎসব উদ্যাপনের সময়ও বাড়ছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় উৎসবগুলোর জন্য চাহিদার তুলনায় বেশি অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে ভিন্ন দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, এক দিন ছুটি বাড়ানোর ফলে সাপ্তাহিক ছুটিসহ মোট পাঁচ দিনের বিরতি পাওয়া যাচ্ছে, যা উৎসব উদ্যাপনকে আরও স্বস্তিদায়ক করবে। তাঁর মতে, প্রস্তাবের চেয়ে বেশি অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।
মন্তব্য করুন