স্বৈরতান্ত্রিকতা ঠেকাতে কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকার প্রস্তাবের পক্ষে সরকার রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। একই বক্তব্যের বিষয়টি মঙ্গলবারের একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের সীমা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী হতে পারে। তবে তাঁদের দলের পক্ষ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই প্রস্তাব করেছিলেন, কোনো ব্যক্তি যেন ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকেন। স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ঠেকাতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এখনো সেই অবস্থান থেকে সরে আসেনি। তবে সংসদে বিরোধী দল বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে বিকল্প প্রস্তাব এলে সেটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। অর্থাৎ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও মতামতের সুযোগ খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সংবিধান সংশোধনের অন্যান্য প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের বিষয় রয়েছে।
তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও রূপরেখা কেমন হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা ও বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব প্রয়োজন বলে জানান তিনি। পরবর্তী সময়ে এসব বিষয় সংসদে বিবেচনা করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত না হওয়ার বিষয়টি মঙ্গলবারের অন্যান্য প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে দেশকে একক রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এখানে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দ্বিকক্ষ সংসদের বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, সরকার সে অনুযায়ী এগোতে চায় বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদই নেবে।
এর আগে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটি জানিয়েছিল, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়েও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আলোচনার দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিরোধী দলকে বিশেষ কমিটিতে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘জুলাই সনদ’-এর কোনো বিষয়ে বিরোধী দলের ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে সে জন্য বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের মতামত বিবেচনার কথা এর আগেও জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে ২৭ সেপ্টেম্বরের তৃতীয় বৈঠকের পর বিশেষ কমিটি জানিয়েছিল, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও সংবিধান সংশোধন নিয়ে প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আরও আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন