মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও বিভিন্ন ভেসেলে হামলার ঘটনায় নিজেদের বড় ধরনের সফলতা দাবি করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই ধারাবাহিক হামলার কারণেই ওয়াশিংটন তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানি উপকূল থেকে আরও দূরে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন বেশ কয়েকজন সেনা আহত হওয়ার খবর প্রকাশের পরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো চলতি মাসের শুরুর দিকে তাদের পূর্বের অবরোধের অবস্থান থেকে পিছিয়ে গেছে। আগে ওমান উপসাগরের প্রবেশদ্বার ও চাবাহার বন্দরের কাছাকাছি অবস্থান করলেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এড়াতে তারা এখন আরব সাগরের মধ্যবর্তী গভীরে সরে গেছে। এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও সাম্প্রতিক এক বার্তায় মার্কিন নৌবাহিনীর এই পিছু হটাকে ইরানের যোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ আঘাতের ফল হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণ বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রাখার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার তেহরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও মার্কিন সামরিক বাহিনী এই পথ দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জ্বালানি চালান অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ও অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১৩ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল কাঁচা তেল এই পথ দিয়ে পার হচ্ছে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির কাছাকাছি। আরব উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন সুরক্ষায় ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে ওমানের উপকূল ঘেঁষে তেল পরিবহন চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন অবরোধ ও অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখেও হরমুজ প্রণালিতে কৌশলগত প্রভাব বজায় রাখতে ইরান তার এই আক্রমণাত্মক ও সুকৌশলী নীতি অব্যাহত রাখতে পারে, যা পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদি এক নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন