গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে। সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লেও গত এক সপ্তাহে পরিবহন খরচ বাড়ার অজুহাতে চাল, ডাল, ডিম, মাছ ও শাকসবজিসহ প্রায় প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের দাম ৩ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মাসের শেষদিকে এসে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ সামাল দিতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষ।
বুধবার বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পর সরকারের পক্ষ থেকে বাজারে এর বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশা দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা বাজারে মোটা স্বর্ণা জাতের চালের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৫.৪৫ শতাংশ বেড়ে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এর আগে ৫৫ টাকা ছিল। এছাড়া বড় দানার মসুর ডাল ৫.৫৫ শতাংশ বেড়ে ১০০ টাকা, খোলা আটা ৫০ টাকা এবং খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে আগুন লেগেছে বলে মন্তব্য করছেন ক্রেতারা। সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দাম ৮ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১৩০ টাকায় ঠেকেছে। কাঁচা মরিচের দাম এক লাফে ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শসা ৫০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং পটল ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রোটিনের অন্যতম উৎস ফার্মের ডিমের ডজন ১০ শতাংশ বেড়ে ১৫০ টাকা থেকে সরাসরি ১৬৫ টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি আমদানির রসুন ১৮০ টাকা, প্যাকেটজাত তরল দুধ ১১০ টাকা এবং কম দামি মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশ ও তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ভোক্তারা বলছেন, পরিবহন খাতের খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। কারওয়ান বাজারে সবজি নিয়ে আসা ব্যাপারী মো. বাপ্পা মজুমদার জানান, বগুড়া থেকে ঢাকায় একটি ট্রাক আনতে আগে যেখানে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা ভাড়া লাগত, এখন অতিরিক্ত ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। যার অনিবার্য প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, সাধারণ মানুষ যখন ইতিমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে জর্জরিত, ঠিক সেই সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা অত্যন্ত হঠকারী সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে সমাজের প্রতিটি স্তরের ভোক্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরীও একই মত প্রকাশ করে জানান, বেকারত্ব ও আয়হীনতার এই সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রোধে বাজার মনিটরিং ও নজরদারি আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন। অন্যদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, পণ্যের দাম যাতে অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে, সে জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে কঠোর নজরদারি ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে
মন্তব্য করুন