রাস্তায় চলাচল আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, হাঁটার এই সাধারণ কাজটিও হতে পারে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দারুণ এক অসিলা। প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে চলতে হবে বিনয়, সততা ও সজাগ দৃষ্টি নিয়ে, যাতে আমাদের কারণে বিন্দুমাত্র কষ্ট না পায় অন্য কোনো পথচারী। জনবহুল স্থানে বসা বা চলাচলের ক্ষেত্রে ইসলামের রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের রাস্তায় বসার ক্ষেত্রে দৃষ্টি অবনত রাখা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া, সালামের জবাব দেওয়া এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পথচলার সময় চোখকে সংযত রাখা মুমিনের বড় একটি গুণ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিন পুরুষ ও নারীদের দৃষ্টি সংযত রাখতে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অনিচ্ছায় কোনো কিছু চোখে পড়ে গেলে দোষ নেই, তবে ইচ্ছা করে বারবার তাকানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া ইমানের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ইমানের সত্তরের বেশি বা ষাটের বেশি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। রাস্তায় কাঁটা, কাচ, পেরেক বা অন্য কোনো ক্ষতিকর বস্তু দেখলে তা সরিয়ে দেওয়া কেবল নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের মাধ্যমও বটে।
হাঁটার সময় মনে কোনো ধরনের অহংকার বা লৌকিকতা রাখা যাবে না। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে আল্লাহ তাআলা দম্ভভরে চলাফেরা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন, কারণ তিনি কোনো দাম্ভিক ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না। আজকের ব্যস্ত যান্ত্রিক যুগেও নবীজির এসব শিক্ষা দারুণভাবে প্রাসঙ্গিক। আধুনিক প্রেক্ষাপটে রাস্তার আদব রক্ষা বলতে বোঝায় যত্রতত্র জটলা পাকিয়ে আড্ডা না দেওয়া, অবৈধভাবে গাড়ি বা বাহন পার্কিং করে অন্যের পথ আটকে না রাখা, যত্রতত্র ময়লা ফেলে রাস্তা নোংরা না করা এবং বয়স্ক বা বিপদে পড়া মানুষকে সাধ্যমতো সাহায্য করা। চলাফেরার এই সাধারণ নিয়মগুলো আমাদের জীবনকে সুন্দর ও শৃঙ্খলিত করে তোলে, যা মূলত আমাদের ইমান ও সুন্দরের চর্চারই বহিঃপ্রকাশ।
মন্তব্য করুন