নেপালের ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যে সুড়ঙ্গ থেকে সম্প্রতি দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে আর কেউ বেঁচে নেই। সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তন্ন তন্ন করে ঘুরে এসে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় হওয়ায় এবং পুরো অংশ কাদা ও পাথরে চাপা পড়ে থাকায় সেখানে আর কাউকে জীবিত বা মৃত উদ্ধারের কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে ওই সুড়ঙ্গের উদ্ধারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ ঘোষণা করা হয়েছে।
নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর (এপিএফ) সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাংয়ের নেতৃত্বে এবং নেপালি সেনার সহায়তায় সুড়ঙ্গটিতে প্রবেশ করে। উদ্ধারকারী দলের সদস্য অম্বর মাহাত জানান, বানের পানির চাপে সুড়ঙ্গের উপরের স্ল্যাব ধসে পড়ার পাশাপাশি পুরো প্রজেক্টের প্রতিটি অংশ কাদা, মাটি ও পাথরে সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। এর আগে আকস্মিক বন্যার নয় দিন পর ওই সুড়ঙ্গ থেকে সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজন নামের দুই শ্রমিককে জীবিত এবং একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সুড়ঙ্গে ৯ দিনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা কাটিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা সঞ্জয় কাঠমান্ডুতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৬ আগস্ট ত্রিকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে আসা আকস্মিক হড়পা বানে নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গেই প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাকৃতিক এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১২৮৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
মন্তব্য করুন