তামিল সিনেমার জনপ্রিয় সুপারস্টার সি. জোসেফ বিজয় বা থালাপাতি বিজয়ের দীর্ঘ অভিনয় জীবনের শেষ চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত ‘জানা নায়ক’ (Jana Nayagan) সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে। তেলুগু ব্লকবাস্টার ‘ভাগাবন্ত কেসারি’ (Bhagavanth Kesari) ছবির এই রিমেকটি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা থাকলেও আন্তর্জাতিক সমালোচক মহলে এটি বেশ কিছু নেতিবাচক পর্যালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সমালোচক সাইমন আব্রামস ছবিটির অতিরিক্ত এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দুর্বল চিত্রনাট্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তেলুগু তারকা নন্দামুরি বালাকৃষ্ণার জাতীয়তাবাদী অ্যাকশন ঘরানার মূল ছবিটির আদলে নির্মিত এই সিনেমায় বিজয়কে একজন সাবেক পুলিশ ও কারাবন্দী নেতার ভূমিকায় দেখা গেছে, যিনি তার প্রয়াত বন্ধুর মেয়ে ভিজিকে (মামিতা বাইজু) সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে চান। ছবির মূল খলনায়ক জন হিমলারের (ববি দেওল) চক্রান্ত থেকে দেশকে রক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়নের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, সমালোচকদের মতে ছবিটির রাজনৈতিক স্লোগান ও অগোছালো গল্প দর্শকদের মুগ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে ছবির অ্যাকশন দৃশ্য ও ব্যাকগ্রাউন্ডে মাত্রাতিরিক্ত এবং দৃষ্টিকটু এআই অ্যানিমেশনের ব্যবহার ছবির মান অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরই বাস্তব জীবনে তামিলনাড়ু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া বিজয়ের এই বিদায়ী ছবিটিকে তার ক্যারিয়ারের একটি দুর্বল প্রজেক্ট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ছবিতে রোবোটিক কুকুর, লেজার-ব্লাস্টিং অ্যান্ড্রয়েড এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি ব্যাকগ্রাউন্ড ও এক্সট্রার ছড়াছড়ি রয়েছে, যা সামগ্রিক দৃশ্যমানতাকে বেশ নিম্নমানের করে তুলেছে বলে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের সঙ্গীত পরিচালনা সত্ত্বেও অতিরিক্ত ভিজ্যুয়াল কারসাজি এবং অসংলগ্ন গল্প বলার শৈলীর কারণে ছবিটি দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে ইতিমধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন