|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 6, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করলেন সুয়েলা ব্রেভারম্যান

যুক্তরাজ্যের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রেভারম্যান। সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিক সুয়েলা ব্রেভারম্যান এক বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ব্রিটেনের সাবেক উপনিবেশগুলোর উচিত উলটো ব্রিটেনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তার মতে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তৎকালীন উপনিবেশগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ, শ্রম ও অবদান রেখেছিল, যার ভিত্তিতেই বর্তমানের অনেক শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত গড়ে উঠেছে।

লেবার পার্টির এমপি বেল রিবেরো-অ্যাডির একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় ব্রেভারম্যান এই বক্তব্য দেন। বেল রিবেরো-অ্যাডি তার পোস্টে জ্যামাইকার ক্ষতিপূরণ দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেছিলেন। এর উত্তরে ব্রেভারম্যান বলেন, ১৮ শতকের কর্মকাণ্ডের দায় ২১ শতকের ব্রিটিশ জনগণের ওপর চাপানোর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তবে ব্রেভারম্যানের এই ‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিনিয়োগ’ তত্ত্ব নিয়ে ইতিহাসবিদ ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে প্রবল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ঐতিহাসিক তথ্য ও গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। অর্থনীতিবিদ উৎস পট্টনায়েকের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ঔপনিবেশিক শাসনামলে কেবল ভারত থেকেই প্রায় ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদ লুট করেছিল ব্রিটেন। ঔপনিবেশিক অর্থনীতির মূল লক্ষ্য ছিল লন্ডনের স্বার্থে সম্পদ ও শ্রম শোষণ করা, কোনো অঞ্চলের নিজস্ব উন্নয়ন সাধন করা নয়। এছাড়া দাসপ্রথা বিলুপ্তির সময় ব্রিটিশ সরকার উলটো দাসমালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে যে বিশাল ঋণের বোঝা বহন করেছিল, তা ১৮৩৫ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় ব্রিটিশ করদাতাদের ট্যাক্সের অর্থেই শোধ করতে হয়েছে। ফলে উপনিবেশের মানুষের কল্যাণের বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত নয়।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুয়েলা ব্রেভারম্যানের এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। সমালোচকরা মনে করছেন, উপনিবেশগুলোতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের লুটতরাজকে ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করা এক ধরনের বিকৃত ইতিহাস চর্চা। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য কোনো উন্নয়ন করেনি, বরং তারা প্রতিটি উপনিবেশের সম্পদ ও অর্থ লুট করেছে নিজেদের স্বার্থে। রাজনৈতিক মহলেও ব্রেভারম্যানের এই বক্তব্যকে কেবল একটি অদূরদর্শী কৌশল নয়, বরং ইতিহাসের নির্লজ্জ অস্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাম্রাজ্যবাদের ইতিহাস এবং তার দায়বদ্ধতা নিয়ে সুয়েলা ব্রেভারম্যানের এই বক্তব্যকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন? উপনিবেশগুলোর প্রতি ব্রিটেনের দায়িত্ব কি কেবল বিনিয়োগের খাতিরেই শেষ হয়ে যায়, নাকি এর সাথে নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও জড়িত? আপনার মতামত জানাতে পারেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বড় আসরে রোনালদোর গোলখরা দীর্ঘায়িত

1

হানিট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইল চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার: ডিবি পুলি

2

টানা ভারী বৃষ্টিতে ফের জলাবদ্ধতার কবলে পড়ার শঙ্কা রাজধানী ঢা

3

রাজশাহী থেকে সারা দেশের বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

4

হামের প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৪৫

5

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ২৬টি টুথপেস্টে মিলল ক্ষতিকর মা

6

বিশ্বকাপে কি দেখা হবে মেসি-রোনালদোর?

7

হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসালে ইরানকে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পে

8

ইন্দোনেশিয়ায় ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প, একজনের মৃত্যু ও ব্যাপক

9

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে রাজশাহী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের

10

ঘরের মাঠে শেষবার খেলতে নামছেন রোনালদো?

11

হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতন ও তেলের

12

বরগুনায় একদিনে ৫ লাশ উদ্ধার

13

ইরান-ইসরাইল একে অপরকে এক সপ্তাহ শান্তিতে থাকতে দেবে: ট্রাম্প

14

গজারিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার

15

ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হচ্ছে: পুতিনের সঙ্গে আলাপের পর

16

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সব দায় নিজ কাঁধে নিলেন ট্রাম্প

17

আমার ক্ষমতার সীমা নেই': ট্রাম্প

18

৬৪ সেকেন্ডে রেকর্ড গোল, ১০ জনের প্যারাগুয়ের জয়

19

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার

20