যুক্তরাজ্যের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিক সুয়েলা ব্রেভারম্যান এক বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ব্রিটেনের সাবেক উপনিবেশগুলোর উচিত উলটো ব্রিটেনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তার মতে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তৎকালীন উপনিবেশগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ, শ্রম ও অবদান রেখেছিল, যার ভিত্তিতেই বর্তমানের অনেক শক্তিশালী গণতন্ত্রের ভিত গড়ে উঠেছে।
লেবার পার্টির এমপি বেল রিবেরো-অ্যাডির একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় ব্রেভারম্যান এই বক্তব্য দেন। বেল রিবেরো-অ্যাডি তার পোস্টে জ্যামাইকার ক্ষতিপূরণ দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেছিলেন। এর উত্তরে ব্রেভারম্যান বলেন, ১৮ শতকের কর্মকাণ্ডের দায় ২১ শতকের ব্রিটিশ জনগণের ওপর চাপানোর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তবে ব্রেভারম্যানের এই ‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিনিয়োগ’ তত্ত্ব নিয়ে ইতিহাসবিদ ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে প্রবল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ঐতিহাসিক তথ্য ও গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। অর্থনীতিবিদ উৎস পট্টনায়েকের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ঔপনিবেশিক শাসনামলে কেবল ভারত থেকেই প্রায় ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদ লুট করেছিল ব্রিটেন। ঔপনিবেশিক অর্থনীতির মূল লক্ষ্য ছিল লন্ডনের স্বার্থে সম্পদ ও শ্রম শোষণ করা, কোনো অঞ্চলের নিজস্ব উন্নয়ন সাধন করা নয়। এছাড়া দাসপ্রথা বিলুপ্তির সময় ব্রিটিশ সরকার উলটো দাসমালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে যে বিশাল ঋণের বোঝা বহন করেছিল, তা ১৮৩৫ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় ব্রিটিশ করদাতাদের ট্যাক্সের অর্থেই শোধ করতে হয়েছে। ফলে উপনিবেশের মানুষের কল্যাণের বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত নয়।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুয়েলা ব্রেভারম্যানের এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। সমালোচকরা মনে করছেন, উপনিবেশগুলোতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের লুটতরাজকে ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করা এক ধরনের বিকৃত ইতিহাস চর্চা। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য কোনো উন্নয়ন করেনি, বরং তারা প্রতিটি উপনিবেশের সম্পদ ও অর্থ লুট করেছে নিজেদের স্বার্থে। রাজনৈতিক মহলেও ব্রেভারম্যানের এই বক্তব্যকে কেবল একটি অদূরদর্শী কৌশল নয়, বরং ইতিহাসের নির্লজ্জ অস্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্রাজ্যবাদের ইতিহাস এবং তার দায়বদ্ধতা নিয়ে সুয়েলা ব্রেভারম্যানের এই বক্তব্যকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন? উপনিবেশগুলোর প্রতি ব্রিটেনের দায়িত্ব কি কেবল বিনিয়োগের খাতিরেই শেষ হয়ে যায়, নাকি এর সাথে নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও জড়িত? আপনার মতামত জানাতে পারেন।
মন্তব্য করুন