দুই দেশের নৌসচিব পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে বারবার কূটনৈতিক চিঠি (নোট ভারবাল) পাঠাচ্ছে ভারত। চলতি বছরে অন্তত তিনটি চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে বৈঠকের জন্য তিনটি সম্ভাব্য তারিখও উল্লেখ করেছে দিল্লি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে এই বৈঠকে বসার বিষয়ে আপাতত কিছুটা আগ্রহ কম দেখাচ্ছে বাংলাদেশ।
যুগান্তরের বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৩ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পর্যটকবাহী ক্রুজ চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারত কোনো পণ্য ট্রান্সশিপমেন্টও করেনি। তবে নৌপ্রটোকল (পিআইডব্লিউটিঅ্যান্ডটি) চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে নৌপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে, যেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ টন পণ্য পরিবাহিত হয়েছে। নিয়মানুযায়ী ২০২৩ সালের বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের বৈঠক দিল্লিতে হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ঢাকা এই মুহূর্তে ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে। আগামী ৭-৯ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ‘সাগরমন্থন : দ্য গ্রেট ওশেনস ডায়ালগ’ এ অংশ নিতে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। ওই সময়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া জানিয়েছেন, বৈঠকের বিষয়ে ভারতের প্রস্তাব পাওয়া গেলেও তা পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং প্রস্তুতি আরও বাড়াতে হবে।
দিল্লির এবারের বৈঠকে বাংলাদেশ সীমান্তসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ট্রান্সশিপমেন্ট, ক্রুদের ল্যান্ডিং পাস, অতিরিক্ত চার্জ পরিহার এবং নৌপথে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহের ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাগুলো।
মন্তব্য করুন