অতিরিক্ত হল ফি কমানোর জোরালো দাবিতে এবার রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলনে নেমেছেন। সোমবার রাতে কলেজের প্রধান হল গেটের সামনে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে অবিলম্বে অযৌক্তিক ফি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত অন্যান্য সমমানের কলেজগুলোতে যেখানে বার্ষিক বা নির্দিষ্ট হল ফি ছয় হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে, সেখানে তিতুমীর কলেজে অন্যায়ভাবে তা আট হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত এই উচ্চহারে ফি পরিশোধ করতে গিয়ে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু শিক্ষার্থী মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছেন।
শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পর কলেজ প্রশাসন ফি কমানোর মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে দেখা যায়, মাত্র ২০০ টাকা কমিয়ে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে সাত হাজার আটশত টাকা। শিক্ষার্থীদের সাফ কথা, প্রশাসনের এই সামান্য পরিমাণ ফি কমানোর সিদ্ধান্ত তাঁদের সঙ্গে এক ধরণের চরম ‘প্রহসন’ ও ‘প্রতারণা’ ছাড়া আর কিছু নয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে প্রশাসন হল ফি কমিয়ে সাত হাজার টাকা করার কথা বলেও পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপনে তা ৭ হাজার ৮০০ টাকা করেছে, যা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তামাশা তুল্য। এছাড়া পুরো আন্দোলনের নেতৃত্ব বা সমঝোতার নামে গুটি কয়েক ছাত্রনেতার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাও সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিতুমীর কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভাগ্য বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দু-একজন ছাত্রনেতা একা নিতে পারে না, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল সাধারণ শিক্ষার্থীদেরই রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো হলো হল ফি অবিলম্বে কমিয়ে ছয় হাজার টাকায় পুনর্নির্ধারণ করতে হবে, শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সকল ধরনের ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে ব্যর্থতার দায়ে বর্তমান কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন যে তাদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেওয়া না হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও কঠোর ও দুর্বার করে তোলা হবে।
মন্তব্য করুন