দেশের আকাশপথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে স্বর্ণ আমদানির অন্যতম প্রধান ও নিরাপদ করিডোরে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বিমানের সিট, টয়লেট, লাগেজ, চার্জার, জুতাসহ যাত্রীদের আন্ডারওয়্যার এমনকি পেটের ভেতর লুকিয়ে স্বর্ণ পাচারের নানা অভিনব কৌশল ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা। সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি এই চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার কর্মী, বিমানবন্দর পরিচ্ছন্নতাকর্মী, মেকানিক, কাস্টমস, সিভিল এভিয়েশন, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং খোদ নিরাপত্তাকর্মীরাও। মাঝে মাঝে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে কিছু চালান ধরা পড়লেও বেশিরভাগ স্বর্ণের চালানই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিরাপদে বাইরে চলে যাচ্ছে।
চোরাচালানের এই রুট নিয়ে অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট দায়িত্ব না থাকলেও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের চোখের সামনেই দুবাইফেরত ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকে সুকৌশলে স্বর্ণের প্যাকেট বুঝে নেন নিরাপত্তা প্রহরী নিজাম। পরবর্তীতে সেই প্যাকেট বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোসহ অন্যান্য সহযোগীদের মাধ্যমে বাইরে পাচার করা হয়। গত ১৯ জুলাই দুবাই থেকে আসা এমনই এক যাত্রী ওয়াহিদুল আলমের মাধ্যমে স্বর্ণের চালান বাইরে পাচারের প্রমাণ মিলেছে। যদিও এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নিরাপত্তা প্রহরী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। ঘটনার পর অভিযুক্তদের টার্মিনালের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য এলাকায় পদায়ন করা হলেও সিন্ডিকেটের মূল শেকড় বহাল রয়েছে। পতেঙ্গা থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত গত আড়াই বছরে স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত মামলায় মাত্র ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা এই বিশাল অপরাধ নেটওয়ার্কের তুলনায় খুবই নজিরবিহীন।
মন্তব্য করুন