ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি পরীক্ষার ভোগান্তি কমাতে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর বা এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের সময় অপচয় রোধ করতে একটি নির্ধারিত ভর্তি ক্যালেন্ডার প্রণয়নেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষা রূপান্তরের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই নির্দেশনা দেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করা হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের মতো প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলো এতে অংশ নেয়নি। এমনকি সম্প্রতি কিছু বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ থেকে বের হয়ে গেছে। শিক্ষামন্ত্রীর নতুন এই উদ্যোগে বলা হয়েছে, স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে বাধ্য। ফলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি স্বেচ্ছায় গুচ্ছ বা সমন্বিত পদ্ধতিতে না আসে, তবে প্রয়োজন সাপেক্ষে আইন সংশোধনের পথ বেছে নেওয়া হতে পারে। বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলে বাকিরাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে বলে মনে করছে কতৃপক্ষ।
বর্তমানে দেশের ৫৯টি অনুমোদিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়মে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে থাকে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছোটাছুটি করতে গিয়ে আর্থিক ও শারীরিক উভয় দিক থেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত চলা দীর্ঘ এই ভর্তি প্রক্রিয়ার বেড়াজাল ভেঙে একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডারের আওতায় সব উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে ইউজিসিকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই নিজস্ব আইনের স্বকীয়তা ও একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি তুলে ধরে একক ভর্তি প্রক্রিয়ার পক্ষে তাদের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন