ঘরে ঘরে এখন ফ্যাটি লিভারের সমস্যাসহ নানা লিভারজনিত রোগ উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে হেপাটাইটিসের প্রকোপ। শুধু ওষুধ খেয়ে লিভারের এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও যোগাসন চর্চা। মূলত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিস এ ও ই এবং রক্ত ও দেহরসের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি, সি ও ডি ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। এই ভাইরাসগুলোর আক্রমণে লিভারের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয় এবং রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। লিভার সুস্থ রাখতে ও রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে পরিঘাসন, আপনাসন ও ফলকাসন যোগাসনগুলো দারুণ কার্যকরী, যা পেটের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ম্যাসাজের মতো কাজ করে যকৃতের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
নিয়মিত লিভার ভালো রাখতে যে আসনগুলো অভ্যাস করা যেতে পারে:
পরিঘাসন: ম্যাটের ওপর হাঁটু মুড়ে বজ্রাসনের ভঙ্গিতে বসে পিঠ সোজা রেখে শরীর তুলতে হবে। এরপর বাঁ পা বাঁ দিকে প্রসারিত করে বাঁ হাত দিয়ে বাঁ হাঁটু ধরে ডান হাত মাথার ওপর তুলতে হবে। কোমর থেকে দেহের উপরের অংশ ধীরে ধীরে বাঁ দিকে হেলিয়ে বাঁ হাত দিয়ে বাঁ হাঁটু স্পর্শ করার চেষ্টা করতে হবে। একইভাবে ডান পা প্রসারিত করে বিপরীত পাশেও ব্যায়ামটি করতে হবে।
আপনাসন: টান টান হয়ে শুয়ে দুই হাত পাশে রেখে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হবে। এরপর শ্বাস নিতে নিতে দুই হাঁটু জোড়া করে বুকের কাছে নিয়ে এসে দুই হাত দিয়ে এমনভাবে জড়িয়ে ধরতে হবে যাতে পেটে চাপ পড়ে (পবনমুক্তাসনের মতো)। এরপর ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে হবে।
ফলকাসন: ম্যাটের ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে শরীর টান টান রেখে হাত ও কনুইয়ে ভর দিয়ে শরীর ধীরে ধীরে ওপরে তুলতে হবে। পায়ের ভর থাকবে বুড়ো আঙুলের ওপর এবং দুই পায়ের দূরত্ব কমিয়ে হাঁটু ও পেট মাটি থেকে ওপরে তুলে পেট ভেতর দিকে টেনে রাখতে হবে। স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বজায় রেখে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থানে থাকতে হবে।
মন্তব্য করুন