যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার পর একে পাকিস্তানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য ও নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঐতিহাসিক দিনটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো একটি দিন হিসেবে অভিহিত করেন। তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে একটি সাধারণ সমঝোতায় নিয়ে আসা মোটেও সহজ কোনো কাজ ছিল না; বরং এই উদ্যোগটিকে অতীতে অনেকেই প্রায় অসম্ভব বলে মনে করতেন। দুই দেশের মধ্যকার এই দীর্ঘদিনের বৈরিতা দূর করে একটি সফল বোঝাপড়া তৈরি করার পেছনে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির কূটনৈতিক দক্ষতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এই দুই দেশের মধ্যকার চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াটিতেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের সময় দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা সশরীরে এক মঞ্চে উপস্থিত হননি, বরং তাঁরা ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে ইলেকট্রনিক উপায়ের মাধ্যমে এই চুক্তিতে সই সম্পন্ন করেছেন। ঐতিহাসিক এই সমঝোতার মূল শর্ত হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি এই চুক্তির আওতায় ইরানের অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে দেশটির ওপর আন্তর্জাতিকভাবে বা বাণিজ্যিকভাবে আরোপিত নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
মন্তব্য করুন