প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট চেলসির দলবদল নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবটি তরুণ খেলোয়াড়দের পেছনে বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগের কৌশল থেকে সরে এসে অভিজ্ঞ ও বয়স্ক ফুটবলারদের প্রতি ঝোঁক বাড়িয়েছে। ডিফেন্ডার ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া ছাড়াও স্ট্রাইকার ড্যানি ওয়েলবেক এবং মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসনের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দলে ভেড়ানোর গুঞ্জন ঘিরে এই আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ২৬ বছর বয়সি লাক্রোয়াকে দলে টানার চেষ্টা চলছে, যিনি গত দুই বছরে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে আসা যেকোনো নতুন খেলোয়াড়ের চেয়ে বয়সে কিছুটা বড়। পাশাপাশি, ব্রাইটনের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ড্যানি ওয়েলবেকের বয়স ৩৫ এবং ব্রেন্টফোর্ডের মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসনের বয়স ৩৬ বছর। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে যে, ক্লাবটি কি তবে তাদের দীর্ঘমেয়াদী যুব-নির্ভর দলবদল নীতি থেকে সরে আসছে?
ক্লু মিলতে পারে ক্লাবের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে। ২০২২ সালে ক্লাবের মালিকানা বদলের পর তৎকালীন কোচ থমাস টুখেল বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে রাহিংশ স্টার্লিং, কালিদু কুলিবালি এবং পিয়েরে-এমেরিক অবামেয়াংয়ের মতো পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই উদ্যোগ খুব একটা সফল হয়নি। অধিক বেতনের স্টার্লিং মাঠে আশানুরূপ পারফর্ম করতে ব্যর্থ হয়ে পরে ফ্রি ট্রান্সফারে ক্লাব ছাড়েন। একইভাবে, ত্রিশোর্ধ্ব কুলিবালি ও অবামেয়াংও স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে থিতু হতে পারেননি এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ক্লাব ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই ব্যর্থতার পর চেলসি সম্পূর্ণভাবে তরুণ খেলোয়াড় কেনার নীতিতে মনোনিবেশ করে।
তারুণ্যের ওপর ভরসা রাখার সেই কৌশলটিতে কিছু বড় সাফল্যও এসেছে। যেমন বেনফিকা থেকে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে আসা এনজো ফার্নান্দেজ, ব্রাইটন থেকে মধ্যমাঠে মোইসেস কাইসেদো এবং ম্যানচেস্টার সিটি থেকে তুলনামূলক কম দামে আসা কোল পালমার ক্লাবের অন্যতম ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠেন। প্রিমিয়ার লিগে তাদের নান্দনিক পারফরম্যান্স দলের আক্রমণ ও মধ্যমাঠকে দারুণভাবে শক্তিশালী করেছে। তবে তরুণদের নিয়ে গড়া এই নীতিতেও হোঁচট খেতে হয়েছে ব্লুজদের। অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে মাইখাইলো মুদ্রিককে দলে ভেড়ানো হলেও নানা বিতর্ক ও নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তিনি দলের কোনো উপকারে আসেননি। এছাড়া জোয়াও ফেলিক্সও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত ক্লাব ছেড়ে চলে যান।
তরুণ ও অভিজ্ঞ দুই কৌশলই পরখ করে দেখার পর চেলসি এখন হয়তো ভারসাম্য খোঁজার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতের তারকা তৈরির পাশাপাশি স্কোয়াডে মাঠের ভেতরের নেতৃত্ব, স্থায়িত্ব এবং কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচ বের করে আনার মতো অভিজ্ঞতার গুরুত্ব উপলব্ধি করছেন কোচ জাবি আলোনসো ও ক্লাব কর্তারা। উদীয়মান তারকাদের সঙ্গে ড্যানি ওয়েলবেক বা জর্ডান হেন্ডারসনের মতো পরীক্ষিত খেলোয়াড়দের সংযুক্তি ড্রেসিংরুমে ভারসাম্য আনতে পারে এবং মাঠের পারফরম্যান্সে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা উপহার দিতে পারে।
মন্তব্য করুন