যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর পর হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা (IMO)। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল, যার ফলে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এবং হাজার হাজার নাবিক দীর্ঘ কয়েক মাস সমুদ্রে আটকা পড়েছিলেন।
আইএমও মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ জানিয়েছেন, ইরান, ওমানসহ আঞ্চলিক দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র এবং বৈশ্বিক নৌ-পরিবহন শিল্পের সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সমুদ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সংঘর্ষের ঝুঁকি এড়াতে এই উদ্ধার কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জাহাজ চলাচলের পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘কেপলার’ জানিয়েছে যে, সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গত সোমবার অন্তত ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক দিনে সর্বোচ্চ। তবে দীর্ঘসময় সমুদ্রে আটকে থাকায় নাবিকরা যে শারীরিক ও মানসিক চাপের মুখে ছিলেন, তা লাঘব করাই এখন জাতিসংঘের প্রধান অগ্রাধিকার।
উল্লেখ্য যে, এই সমঝোতার ফলে কেবল নাবিকদের উদ্ধারই নয়, বরং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই রুটটি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। ডেনমার্কের মতো দেশগুলোও ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক মেরিটাইম মিশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যদিও মাইন অপসারণের মতো কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে, তবুও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে হরমুজ প্রণালিতে শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফেরার প্রক্রিয়াটি এখন জোরদার হচ্ছে।
মন্তব্য করুন