আইপিএলের ২০২৬ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই রাজকীয় এক জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে মাত্র ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরসিবি এতটাই বিধ্বংসী ছিল যে, ২৬ বল বাকি থাকতেই তারা জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। হায়দ্রাবাদের বোলারদের পাড়ার স্তরে নামিয়ে এনে আরসিবির ব্যাটাররা মাঠের চারদিকে যে তাণ্ডব চালিয়েছেন, তাতে টুর্নামেন্টের শুরুতেই অন্য দলগুলোর কাছে একটি সতর্কবার্তা পৌঁছে গেল। বিশেষ করে কোহলি এবং পতিদারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং হায়দ্রাবাদকে ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগই দেয়নি।
ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে হায়দ্রাবাদকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন আরসিবি অধিনায়ক। কিন্তু শুরু থেকেই হায়দ্রাবাদের ব্যাটাররা আরসিবির বোলিং আক্রমণের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে কোনোমতে ১৪৪ রান তুলতে সক্ষম হয় অরেঞ্জ আর্মি। হায়দ্রাবাদের টপ অর্ডার পুরোপুরি ব্যর্থ হলেও মিডল অর্ডারের সৌজন্যে তারা একটি লড়াই করার মতো পুঁজি পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে আরসিবির বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের মুখে সেই রানও জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে আরসিবির ওপেনিং জুটি ছিল দুর্দান্ত। তারা কোনো তাড়াহুড়ো না করে পাওয়ার প্লে-র সুবিধা কাজে লাগিয়ে রানের গতি সচল রাখেন। কোহলির ক্লাসিক শট আর অন্য প্রান্ত থেকে আসা বড় সব ছক্কায় চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে উপস্থিত ভক্তদের গর্জন ছিল দেখার মতো। মাঝপথে দু-একটি উইকেট পড়লেও রানের গতিতে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। উল্টো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে ১৫.৪ ওভারেই ম্যাচটি শেষ করে দেয় বেঙ্গালুরু। এই বড় জয় আরসিবির নেট রান রেটকে শুরুতেই অনেকটা এগিয়ে রাখল।
হায়দ্রাবাদের বোলাররা এদিন ছিলেন একেবারেই ছন্দহীন। গত সিজনে দারুণ বোলিং করা প্যাট কামিন্সও এদিন আরসিবির ব্যাটারদের থামাতে হিমশিম খেয়েছেন। বিশেষ করে সিক্স হিটিং জোনগুলোতে তারা যেভাবে বল ফেলেছেন, তা ছিল আইপিএলের মানের তুলনায় বেশ সাধারণ। অন্যদিকে আরসিবির ব্যাটিং গভীরতা এবার যে কতটা শক্তিশালী, তা এই ম্যাচেই প্রমাণিত। জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পেরে আরসিবি শিবিরে এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে, যা দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটানোর পথকে আরও প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ম্যাচ শেষে আরসিবি অধিনায়ক দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে জানিয়েছেন যে, তারা এভাবেই নির্ভীক ক্রিকেট খেলে যেতে চান। ভক্তদের জন্য এটি ছিল এক পরম প্রাপ্তি, কারণ আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই এমন দাপুটে পারফরম্যান্স খুব কমই দেখা যায়। অন্যদিকে হায়দ্রাবাদকে এখন তাদের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে পরের ম্যাচের জন্য পরিকল্পনা সাজাতে হবে। সব মিলিয়ে ২০২৬ আইপিএলের পর্দা উঠল আরসিবির আধিপত্য দিয়ে, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন