ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজার বর্তমানে দেশের ড্রাগন ফলের প্রধান কেন্দ্র বা ‘রাজধানী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে মৌসুমের এই সময়ে বাজারটি ড্রাগন ফলের কেনাবেচায় অত্যন্ত সরগরম হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন ভোরে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত চলে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গৌরীনাথপুর বাজারে বর্তমানে প্রায় ১০০টি আড়তে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার ড্রাগন ফল কেনাবেচা হচ্ছে। ঝিনাইদহের তিনটি উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা ও যশোর জেলার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফল বিক্রির জন্য এখানেই নিয়ে আসেন। উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া এবং নিজ জেলায় বড় বাজার থাকায় কৃষকদের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, বাজারে ‘ন্যাচারাল’ বা প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত ড্রাগন ফলের চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি থাকে এবং কৃষকদের যেন লোকসানে পড়তে না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়।
তবে ফলের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিয়ে সচেতনতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ড্রাগন ফলের নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করতে এবং ফল পাকানোর জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিকর টনিক বা রাসায়নিকের ব্যবহার রোধে কঠোর তদারকি করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে, যাতে কোনো অসাধু চক্র ফলের গুণগত মান নষ্ট করতে না পারে।
স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঝিনাইদহ থেকে উৎপাদিত এই সুস্বাদু ড্রাগন ফল এখন ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। কৃষিবান্ধব পরিবেশ ও বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে ঝিনাইদহে ড্রাগন ফলের চাষ দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
মন্তব্য করুন