দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

১৬টি নথি জমা দিয়েও নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ আসামের বাসিন্দা: গুয়াহাটি হাইকোর্টের রায়

০ শেয়ার
১৬টি নথি জমা দিয়েও নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ আসামের বাসিন্দা: গুয়াহাটি হাইকোর্টের রায়

ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ১৬টি নথি জমা দিয়েও ব্যর্থ হলেন আসামের এক বাসিন্দা। গুয়াহাটি হাইকোর্ট কেন এই আবেদন খারিজ করল এবং নথির অসঙ্গতিগুলো কী ছিল, বিস্তারিত পড়ুন এই প্রতিবেদনে।

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • নিজস্ব ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে ১৬টি আলাদা নথি জমা দিয়েছিলেন আসামের বাসিন্দা আমিনুল হক।
  • কিন্তু গুয়াহাটি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানির পর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারী নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।
  • বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং বিচারপতি শামীমা জাহানের বেঞ্চ এই মামলার রায়ে ১৯৬৪ সালের বিদেশী আইনের ৯ নম্বর ধারাটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছে, যখন নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন তা প্রমাণ করার দায়ভার সম্পূর্ণ আবেদনকারীর ওপরই বর্তায়।

নিজস্ব ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে ১৬টি আলাদা নথি জমা দিয়েছিলেন আসামের বাসিন্দা আমিনুল হক। কিন্তু গুয়াহাটি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানির পর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এত নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারী নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং বিচারপতি শামীমা জাহানের বেঞ্চ এই মামলার রায়ে ১৯৬৪ সালের বিদেশী আইনের ৯ নম্বর ধারাটির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছে, যখন নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন তা প্রমাণ করার দায়ভার সম্পূর্ণ আবেদনকারীর ওপরই বর্তায়।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন গুয়াহাটির ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল’ আমিনুল হককে ‘বিদেশী’ হিসেবে ঘোষণা করে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন আমিনুল। নিজের দাবির স্বপক্ষে তিনি ১৯৫১ সালের এনআরসি-র অনুলিপি, একাধিক বছরের ভোটার তালিকা, জমি ক্রয়ের দলিল, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি এবং একটি স্কুল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন। এমনকি আদালতে তার বাবা সশরীরে উপস্থিত হয়ে আমিনুলকে নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেন। তবে আদালত এই মৌখিক সাক্ষ্যকে আইনিভাবে যথেষ্ট বলে মনে করেনি।

হাইকোর্টের রায়ের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নথিপত্র এবং পারিবারিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা। আদালত জানিয়েছে, কেবল কিছু নথি জমা দিলেই নাগরিকত্ব প্রমাণ হয় না, বরং সেই নথিগুলোর মধ্যে যোগসূত্র থাকা জরুরি। রায়ে দেখা গেছে, আবেদনকারীর বাবা ও দাদার নামের বানানে মারাত্মক অসঙ্গতি ছিল। যদিও আদালত নামের বানান নিয়ে কিছুটা ছাড় দিতে রাজি ছিল, কিন্তু আবেদনকারী এটি প্রমাণ করতে পারেননি যে, তাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে একই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। পরিবারের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দার নাম ভোটার তালিকায় একেক সময় একেকভাবে থাকায় আদালত এই তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেনি।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে স্কুলের সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে। ১৯৯৯ সালে স্কুল ছাড়ার যে সনদটি তিনি জমা দিয়েছিলেন, সেটি তৈরির সঙ্গে জড়িত প্রধান শিক্ষক আদালতে এসে তার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি। ফলে সেই নথিটিও অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। ভোটার তালিকায় স্থানান্তরের বিষয়টি মৌখিকভাবে দাবি করা হলেও কোনো উপযুক্ত দালিলিক প্রমাণ দিতে পারেননি আবেদনকারী। সবশেষে, ট্রাইব্যুনালের আগের রায়কেই বহাল রেখে আদালত আমিনুল হকের পিটিশনটি খারিজ করে দেয়, যা আসামে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার একটি স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে রইল।

ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

ইরানে এখন মারা যাওয়াও সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে

2

বরগুনায় একদিনে ৫ লাশ উদ্ধার

3

অস্ট্রেলিয়া বনাম বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচ স্কোর ও লাইভ আপডেট | Darwin Test 2026

4

যুব অধিকার পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল

5

কৃষিপণ্যের দাম নিয়ে কৃষিমন্ত্রী: ‘কৃষকেরও পেট আছে, সংসার আছে’

6

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: প্রধান আসামি ফয়সালের স্ত্রীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর হাইকোর্টে

7

ভারত সিরিজের জন্য ইব্রাহিম জাদরানকে অধিনায়ক করে টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা আফগানিস্তানের

8

প্রেমিকার সহযোগিতায় স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা: নেপালে পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না দম্পতির

9

ইরানকুন্ডার গোলে লিড অস্ট্রেলিয়ার

10

ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি ফি গ্রহণে নতুন নির্দেশনা: নগদ লেনদেন নিষিদ্ধ