সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি-র সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে একটি আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হলফনামায় উল্লেখিত তথ্য আংশিকভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় প্রতিমন্ত্রীর নামে ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ সম্পত্তি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে, কিন্তু প্রকাশিত প্রতিবেদনে সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বার্থের সংঘাত এড়াতে তাঁর পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে লিখিতভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে এই ব্যবসাগুলো পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পরিচালনা করছেন। আলোচিত ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রোমা অটো রাইস মিল, বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন এবং কৃষি খামারসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ‘রোমা অটো রাইস মিল’ গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৪২ কোটি টাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি করা হয়েছে, যার যথাযথ আইনি দলিলও রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর নামে নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি ক্রয়ের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটিরও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ওই জমিটি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিমন্ত্রীর নামে কেনা হয়নি; বরং এটি ‘রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড’-এর নামে ক্রয় করা হয়েছে। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। প্রকাশিত সংবাদে হলফনামার তথ্যের খণ্ডিত উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর পরিবার মনে করেন, তথ্য যাচাই না করে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রচার করা কেবল ওই ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মানহানিই করে না, বরং এটি সুস্থ সাংবাদিকতার পরিপন্থী। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রতি সম্মান রেখে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রকৃত তথ্যের সত্যতা যাচাই করা একটি নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর পরিবার মনে করেন, বর্তমান সরকারের আমলে স্বাধীন সাংবাদিকতা উন্মুক্ত থাকলেও অপসাংবাদিকতা কোনোভাবেই কাম্য নয়, কারণ ভুল সংবাদের কারণে কোনো ব্যক্তি বা গণমাধ্যমের যে ক্ষতি হয়, তা পরবর্তীকালে বিবৃতি বা প্রতিবাদ দিয়ে পূরণ করা প্রায় অসম্ভব।
মন্তব্য করুন