বরগুনার তালতলীতে সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২৫ জুন বরগুনার সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে মামলাটি করেন একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুহাম্মদ রেদওয়ান উল্লাহ। আদালতের বিচারক মো. সাইফুর রহমান অভিযোগটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সমন্বিত দুদক কার্যালয়কে আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. ফজলুল হক বাচ্চু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন। কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের জন্য মোট ৬৬ টন ৮৮০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও, অভিযোগ অনুযায়ী তিনি মাত্র ৬১ টন চাল বিতরণ করেছেন এবং অবশিষ্ট ৫ টন চাল আত্মসাৎ করেছেন। ভুক্তভোগী জেলেদের জন্য বরাদ্দের এই চাল আত্মসাতের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এবং জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় বাদী আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন জানান, সরকারি ত্রাণ সহায়তায় অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়েই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালত বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দুদককে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. ফজলুল হক বাচ্চুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি সম্পদ চুরির ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন। জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল খাতে এমন অনিয়ম প্রমাণ হলে তা সরকারি ত্রাণ বিতরণের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন