মিয়ানমারে সামরিক নিপীড়নের মুখে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের আজ ৯ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ জীবন বাঁচাতে উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দীর্ঘ এই সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বিভিন্ন আলোচনা এবং তালিকা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চললেও বাস্তবে একজন রোহিঙ্গাকেও নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্পে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাখাইনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও ঘরে ফেরার পথ এখনো ঘোর অনিশ্চিত।
রাখাইনে বর্তমানে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যকার চলমান সংঘাতই প্রত্যাবাসনের সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে অঞ্চল চলে যাওয়ায় এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নতুন করে সংঘাতের কারণে আরও অনেক রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের মূল উদ্বেগ তাদের নিরাপত্তা, নিজ ভূমির মালিকানা এবং মৌলিক অধিকার রক্ষা নিয়ে। মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রহীন অবস্থায় রয়েছেন। ইউএনএইচসিআর এবং বিভিন্ন অধিকারকর্মীদের মতে, নাগরিকত্ব ও সমানাধিকার নিশ্চিত না হলে এই প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না।
বাংলাদেশ সরকার ৮ লাখ ২৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারের কাছে পাঠালেও যাচাই-বাছাইয়ের গতি অত্যন্ত ধীর এবং তা এখনো কোনো কার্যকর প্রত্যাবাসনে রূপ নেয়নি। এছাড়া দীর্ঘ ৯ বছর ধরে এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের ফলে উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারাও চান রোহিঙ্গারা নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাক। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় জানিয়েছে যে সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে সরকার। সব বাধা ও শঙ্কা সত্ত্বেও নিজেদের ঘর, ভূমি ও পরিচিত পরিচয়ে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন এখনো বুক বেঁধে রেখেছেন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা।
মন্তব্য করুন