জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে বিএনপির এক সংসদ সদস্যের দেওয়া একটি বিতর্কিত বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ. বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক মাওলানা মামুনুল হকের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন. তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিরোধী দল. স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন যে, কোনো রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, তা তাঁরা চান না. একই সাথে যাঁর সংসদে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তাঁর ব্যক্তিগত বা পরকীয়া জীবন নিয়ে অভিযোগ তোলা সমীচীন নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন. পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং সংসদের চিফ হুইপের অনুরোধের প্রেক্ষিতে স্পিকার ওই অসংসদীয় বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করার ঘোষণা দেন.
বাজেট আলোচনার এক পর্যায়ে বিএনপির সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক দাবি করেন যে, মাওলানা মামুনুল হক বাজেট নিয়ে সরকারের পতন ঘটানোর মতো বড় বড় কথা বলছেন. এরপর তিনি ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক অবরুদ্ধের ঘটনাটিকে ভুলবশত গাজীপুরের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, মামুনুল হক মুতা বিয়ের নামে সেখানে নারীসহ ধরা পড়েছিলেন. একই সাথে তিনি স্পিকারের কাছে ‘মুতা বিয়ে’ আসলে কী, সে সম্পর্কে জানতে চান.
সংসদ সদস্যের এই প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কিছুটা রসাত্মক ভঙ্গিতে বলেন যে, এসব বিষয়ে তাঁকে যেন বিশেষজ্ঞ মনে না করা হয়. তবে সাধারণ ধারণার ওপর ভিত্তি করে স্পিকার বলেন, মুতা বিয়ে হলো সম্ভবত আগের কালের একটি নিয়ম, যেখানে কেউ বিদেশে গেলে সাময়িকভাবে এক মাসের জন্য একজন সঙ্গী খুঁজে নিয়ে সো-কল্ড বিয়ে করতে পারতেন. তবে এই সমস্ত অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে সংসদে আলাপ-আলোচনা না করাই ভালো বলে তিনি সংসদ সদস্যকে সতর্ক করেন.
খোন্দকার আবু আশফাক যখন মামুনুল হক ও পরবর্তীতে ছাত্রশিবির নেতা জিসানের প্রসঙ্গ টেনে কথা বলছিলেন, তখন সংসদ নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইশারায় কিছু একটা বলতে দেখা যায়. প্রধানমন্ত্রীর এই ইশারার পরপরই খোন্দকার আবু আশফাক তাঁর বক্তব্যের বিষয় পরিবর্তন করেন. পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এই প্রসঙ্গটি থামানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং উল্লেখ করেন যে, মুতা বিয়ে একসময় করা গেলেও বর্তমানে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ.
অন্যদিকে, পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বিএনপির সংসদ সদস্যের দেওয়া তথ্যকে সম্পূর্ণ ভুল ও মিথ্যা বলে দাবি করেন. তিনি স্পষ্ট করেন যে, মাওলানা মামুনুল হক গাজীপুরে কোনো মুতা বিয়ে করেননি, বরং তাঁকে নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছিল. মামুনুল হক যাকে নিয়ে রিসোর্টে গিয়েছিলেন তিনি তাঁর আইনসম্মত বিবাহিত স্ত্রী ছিলেন এবং এটি সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও ইসলামে জায়েজ. তীব্র প্রতিবাদের মুখে সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও এটি এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানালে স্পিকার বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন.
মন্তব্য করুন