জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর দুটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর থেকে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় দুই ক্যাম্পাসে অন্তত সাত দশকের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
ঢাকা কলেজে সংঘর্ষ: মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকা কলেজের গ্যালারি নম্বর-২ এ ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও শহীদ পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। পূর্বঘোষিত এই প্রোগ্রামের ব্যানার টানানো ও সাজসজ্জার কাজ চলার সময় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে।
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধর করেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যদিকে ছাত্রদলের দাবি, বহিরাগত শিবিরের কর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে উসকানিমূলক আচরণ করায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে শিবিরের প্রায় ২০ এবং ছাত্রদলের ৭ নেতাকর্মী আহত হন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হাঙ্গামা: একই দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠান চলাকালে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে যান জকসু প্রতিনিধিরা। এ সময় জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক ছাত্রদল নেতাদের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ছাত্রশিবির ও জকসু প্রতিনিধিদের অভিযোগ, তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শিবির ও জকসু প্রতিনিধিরা পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে নিজেদের প্ল্যাকার্ড ছিড়ে ছাত্রদলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। পর পর দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন