জুলাই জাতীয় সনদকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে দেশের পুরো সংবিধান পর্যালোচনা এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে সুনির্দিষ্ট সংশোধনী সুপারিশ তৈরির ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত এই কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং এতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী জানান, ঐতিহাসিক জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বসম্মত আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনায় এই কমিটি গঠন করেছেন। সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করার আগে কমিটি শহীদ পরিবার, আহত জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় করবে। এছাড়া ভারতের ‘কেশবানন্দ ভারতী’ মামলার উদাহরণ টেনে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সাংবিধানিক আদালতের মূল কাঠামোর নীতি বা বেসিক স্ট্রাকচার থিওরি অক্ষুণ্ণ রেখেই এই সংস্কার কাজ পরিচালিত হবে।
কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কমিটি কেবল নিজেদের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সবার মতামতকে ধারণ করে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি গ্রহণযোগ্য প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হবে। ১৭ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিতে বর্তমানে ১২ জন সদস্য কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এবং বিরোধী দলগুলোর তরফ থেকে নাম প্রদান করা হলে তাদেরও যুক্ত করার প্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৬ বিধি অনুযায়ী গঠিত এই বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন