ভারতের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের মুখে পড়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। তবে ষষ্ঠ উইকেটে নিরোশান ডিকভেলা ও সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ১৪৬ রানের দারুণ এক জুটির ওপর ভর করে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। লঙ্কান ব্যাটার সোনাল দিনুশা চমৎকার সেঞ্চুরি তুলে নিলেও শেষ পর্যন্ত সবকটি উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৮৪ রান। এর আগে দেবদূত পাড্ডিক্যালের নান্দনিক সেঞ্চুরিতে ভর করে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ভারত সংগ্রহ করেছিল ৪৬২ রান। প্রথম ইনিংসের সমাপ্তিতে স্বাগতিকদের চেয়ে ১৭৮ রানের বড় লিড নিয়ে চালকের আসনে রয়েছে সফরকারী ভারত।
ম্যাচের তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা মানব সুথারের বিষাক্ত বোলিংয়ের সামনে শুরুতেই চরম ব্যাটিং ধসের শিকার হয়। দলীয় মাত্র ৫৯ রান তুলতেই স্বাগতিকরা তাদের প্রথম সারির ৪ উইকেট হারিয়ে বসে এবং ৯০ রান তুলতেই পড়ে যায় পঞ্চম উইকেট। দলের চরম বিপদের মুহূর্তে ওপেনার নিশান মদুশকা ফার্নান্দো কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। এছাড়া লাহিরু উদারা ২৭ রান, দিনেশ চান্দিমাল ৪ রান, কামিন্দু মেন্ডিস ১৪ রান এবং অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ২১ রান করে আউট হন। প্রাথমিক এই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার দায়িত্ব কাঁধে নেন নিরোশান ডিকভেলা ও সোনাল দিনুশা। দুজন মিলে অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১৪৬ রানের মহামূল্যবান জুটি গড়ে দলের স্কোরকে সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যান। সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গেলেও ৮০ রান করে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ডিকভেলা।
অন্যদিকে, সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে অসাধারণ এক সেঞ্চুরি হাঁকান সোনাল দিনুশা। ১৬৮ বল মোকাবিলা করে ১০০ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। সোনালের পাশাপাশি প্রবাথ জয়সুরিয়া ও লাহিরু কুমারা প্রত্যেকে ১০ রান করে অবদান রাখেন, আর কেশারা নুয়ান্থা করেন মাত্র ২ রান। শেষ পর্যন্ত আসিথা ফার্নান্দো কোনো রান না করে অপরাজিত থাকেন। ভারতের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন মানব সুথার, যিনি ৭৬ রান খরচ করে একাই শিকার করেন গুরুত্বপূর্ণ ৪টি উইকেট। এছাড়া অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা ৩টি এবং মোহাম্মদ সিরাজ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা ও কুলদীপ যাদব প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
মন্তব্য করুন