ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল আন্দ্রেস মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের মহাকাব্যিক সমাপ্তি ঘটে গেল। বেনিনের বিপক্ষে নিজের বিদায়ী ম্যাচেও স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা না করে একটি চমৎকার গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে জয় উপহার দিলেন তিনি। গত ৩১ আগস্ট অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় জার্সির শেষ অধ্যায়টি লিখে ফেললেন এই কিংবদন্তি। আন্তর্জাতিক মঞ্চের আলো নিভে যাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন এরপর কী করবেন মেসি?
ফুটবলকে পুরোপুরি বিদায় জানানোর কোনো ইচ্ছে তার নেই। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তি ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত রয়েছে এবং ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি ঠিক থাকলে এই মেয়াদ আরও বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বুট জোড়া পাকাপাকিভাবে তুলে রাখার পর তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা আবর্তিত হচ্ছে মূলত ক্লাব ফুটবলের মালিকানা, যুব ফুটবলের উন্নয়ন এবং বিশাল এক ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যকে ঘিরে। কোচের ডাগআউটের মানসিক চাপ ও ঝামেলার চেয়ে ক্লাবের নেপথ্য থেকে নীতি নির্ধারণী ভূমিকায় থাকাকেই বেশি পছন্দ করেন তিনি।
মালিক হিসেবে ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থাকার এই যাত্রার অংশ হিসেবে তিনি গত এপ্রিলে স্পেনের পঞ্চম স্তরের ক্লাব ‘ইউই কর্নেলা’ এবং পরবর্তীতে স্প্যানিশ ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্বিতীয় বিভাগের দল ‘সিডি এলডেন্সে’র মালিকানা অর্জন করেছেন। স্পেনের এই ক্লাবগুলোর ফুটবল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পেশাদার ব্যবস্থাপনা নিয়োগ করা হলেও মেসি নিজেই প্রতিটি ম্যাচ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং কৌশলগত দিকগুলো তদারকি করেন। এছাড়া উরুগুয়েতে লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে যৌথভাবে ‘দেপোর্তিভো এলএসএম’ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ফ্লোরিডায় ইন্টার মায়ামির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে আয়োজিত জনপ্রিয় ‘মেসি কাপ’-এর পরিধি বৃদ্ধি করে ১৬টি বিশ্বখ্যাত একাডেমির টুর্নামেন্টে রূপ দিয়েছেন।
মাঠের বাইরে ফোর্বসের মতে ১.১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বিশাল সম্পদের মালিক মেসি গড়ে তুলেছেন বহুমুখী এক ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাডিডাসের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আজীবন চুক্তি, আইবিজা থেকে অ্যান্ডোরা পর্যন্ত বিস্তৃত ছয়টি ‘এমআইএম হোটেল’ চেইন, রোজারিওর রিয়েল এস্টেট প্রকল্প ‘কারাস্কো এম’, রেস্তোরাঁ চেইন ‘এল ক্লাব দে লা মিলানেসা’ এবং বিখ্যাত পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্ট্যানলির সঙ্গে এক্সক্লুসিভ মেট কালেকশন। বাবা হোর্হে মেসির হাত ধরে শুরু হওয়া এই ব্যবসায়িক পথচলায় এখন তিনি নিজেই অত্যন্ত পরিপক্বভাবে বিশ্বস্ত সহযোগীদের নিয়ে বিনিয়োগ পরিচালনা করছেন। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেও ফুটবলপ্রেমী ও উদ্যোক্তা মেসির দ্যুতি যে মাঠ এবং মাঠের বাইরে আরও দীর্ঘকাল ধরে বজায় থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।
মন্তব্য করুন