ফ্রান্সে চলমান তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের স্টান গ্রেনেডের আঘাতে এক শিক্ষার্থীর হাত উড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিক্ষোভ দমনে স্টান গ্রেনেড ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ফ্রান্সের লেঁসে চলা সহিংস বিক্ষোভের সময় পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর সেটি হাত দিয়ে ধরতে যায় এবং তৎক্ষণাৎ তার হাতেই সেটি বিস্ফোরিত হয়। প্রচণ্ড শব্দ ও শক্তির এই বিস্ফোরণে ওই শিক্ষার্থীর হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে উড়ে যায়। উল্লেখ্য, মূলত বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এই ধরনের স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, এই অনভিপ্রেত ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে এই গ্রেনেড ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের চলমান এই আন্দোলনের জেরে আজ বুধবারও ফ্রান্সজুড়ে অন্তত ৫০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আংশিক কিংবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব, দীর্ঘ সময় ক্লাস পরিচালনা, দুপুরের খাবারের জন্য স্বল্প বিরতি এবং শিক্ষাখাতে বাজেট কমানোর সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। এর আগে গত মঙ্গলবার প্রায় দুই হাজার স্কুল ব্লকেড করে সর্বকালের অন্যতম বৃহৎ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দ্রুত শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়াগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের বদলি, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ ক্লাসের সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করা, লাঞ্চের সময় বৃদ্ধি এবং পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলগুলো সংস্কার করা। শিক্ষাখাতে বাজেট কমানোর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরকার শেষ পর্যন্ত পিছু হটে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন