২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে লড়াই করে বিদায় নিলেও, দেশে ফিরে বীরের সম্মান পেয়েছেন নরওয়ের ফুটবলাররা। সোমবার রাজধানী অসলোতে হাজারো সমর্থক এবং খোদ রাজপরিবারের সদস্যরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বরণ করে নেন আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড ও তাদের সতীর্থদের। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ের এই ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স দেশটির ফুটবল ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
নরওয়ে দলের বিমানটি যখন দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করে, তখন নরওয়ের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান সেটিকে এসকর্ট করে নিরাপদে অসলো বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়। বিমানবন্দরে অবতরণের সময় হালান্ডের হাতে একটি স্টাফড র্যাকুন দেখা যায়, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসির রোল ও আলোচনার জন্ম দেয়। তবে মূল আকর্ষণ ছিল রাজপরিবারের উপস্থিতি। যুবরাজ হাকোনের নেতৃত্বে বিশ্বকাপের জনপ্রিয় ‘ভাইকিং রো’ উদ্যাপন করেন ফুটবলার ও সমর্থকরা। রাজপরিবারের এমন অংশগ্রহণ নরওয়েবাসীর হৃদয়ে এই ফুটবলারদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।
পুরো বিশ্বকাপে নিজের জাত চিনিয়েছেন তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড, যিনি টুর্নামেন্টে মোট সাতটি গোল করেছেন। শেষ ষোলোতে ব্রাজিলকে হারিয়ে তারা যেমন চমক দেখিয়েছেন, তেমনি কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারলেও লড়াই করার মানসিকতা সমর্থকদের মুগ্ধ করেছে। শহরজুড়ে খোলা ছাদের বাসে বিজয় শোভাযাত্রা আয়োজনের মাধ্যমে সমর্থকরা তাদের খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে বেলিংহামের গোলে নরওয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলেও, আজকের এই রাজকীয় সংবর্ধনা প্রমাণ করে যে নরওয়ের কাছে হালান্ড-ওডেগার্ডরা কেবল ফুটবলার নন, বরং তারা জাতীয় বীর।
নরওয়ে দলের এই ঐতিহাসিক যাত্রা এবং ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যান্য আপডেট নিয়ে আপনার আর কোনো কিছু জানার আছে কি?
মন্তব্য করুন