হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দায়ের করা আলোচিত মামলায় জামিন পেয়েছেন জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ মোট ১১ জন নেতাকর্মী। রোববার (২ আগস্ট) হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মান্নান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে সকালে তারা আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।
মামলার বিষযে নিশ্চিত করে আসামিপক্ষের আইনজীবী কুতুব উদ্দিন জুয়েল গণমাধ্যমকে জানান, এই মামলাটিতে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কোনো সময়, তারিখ ও স্থান উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধেও কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কথা বলা ছিল না। আদালতের বিচারক এই আইনি ত্রুটি ও সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। জামিন পাওয়ার পর জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন সাংবাদিকদের বলেন, তারা সবসময় দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সে কারণেই সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তারা আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে তাদের জামিন মঞ্জুর করেছেন বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও জেলা শহরে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল। ওই কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ এমপিসহ শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরপর সন্ধ্যায় জেলা শহরের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ শেষ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম সার্কিট হাউজের উদ্দেশে রওনা হলে পথিমধ্যে কোর্ট মসজিদের সামনে পৌঁছামাত্র তাদের গাড়িবহরে একদল যুবকের হামলার ঘটনা ঘটে।
উক্ত হামলায় গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা আত্মরক্ষার্থে কাছাকাছি সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় গিয়ে আশ্রয় নেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। এই সহিংসতার ঘটনার জের ধরে গত বুধবার রাতে এনসিপির ছাত্র সংগঠন জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন