একসময় দক্ষিণ কোরিয়ার অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ হলেও হঠাৎ করেই বিনোদনজগত থেকে নিজেকে পুরোপুরি আড়ালে সরিয়ে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী কিম সে-ইন। দীর্ঘ সময় পর সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নিজের জীবনের সেই করুণ ও কঠিন সময়ের কথা অকপটে সবার সামনে তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।
এমবিএনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘স্পেশাল ওয়ার্ল্ড’-এ অংশ নিয়ে কিম সে-ইন জানান, পরিবারের চরম আর্থিক সংকট ও দায়দেনা কাটাতে তাকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে হয়েছিল। পরিবারের চরম প্রয়োজনের তাগিদেই বাধ্য হয়ে তাকে একসময় অন্তরঙ্গ ও নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
অনুষ্ঠানে অতীতের সেই দুর্বিষহ দিনের স্মৃতিচারণ করে কিম সে-ইন জানান, তার কর্মজীবনের শুরুর দিকে তার নিজ এজেন্সির প্রধান তাকে বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে জোরপূর্বক নিয়ে যেতেন এবং সেখানে তাকে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার সেই দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং প্রতিটি দিন তার কাছে নরকের মতো মনে হতো। নিজের ওপর চরম ঘৃণা তৈরি হয়েছিল তখন।
পরিবারের পেছনের সোনালী দিনের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, তারা মূলত সচ্ছল ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে হঠাৎ করেই তাদের আর্থিক অবস্থার দ্রুত ও ভয়াবহ অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, পরিবারের সদস্যদের শেষ পর্যন্ত একটি গুদামঘরে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছিল। এমতাবস্থায় পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হয়ে অভিনয়ে নামেন তিনি। ওই সময়কার কথা স্মরণ করে অভিনেত্রী বলেন, পরিবারের সেই ক্রান্তিলগ্নে কয়েক কোটি ওন খুব জরুরি প্রয়োজন ছিল এবং পরিবারের দায়িত্ব তাকেই নিতে হতো।
জীবিকার তাগিদে এই ধরনের চ্যালেঞ্জিং ও বিব্রতকর চরিত্রে অভিনয় করতে বাধ্য হওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, তার সেই সিদ্ধান্তটি মেনে নেওয়া পরিবারের জন্য সহজ ছিল না। বিশেষ করে বিষয়টি নিয়ে তার বাবা প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছিলেন এবং অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।
বর্তমানে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জীবনযাপন করছেন এই সাবেক তারকা। কিম সে-ইন এখন সাতটি পরিত্যক্ত কুকুর, খরগোশ ও মুরগিসহ মোট ১৫টি অবলা প্রাণীর সেবাযত্ন ও দেখাশোনা করে সময় কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি বর্তমান সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালাতে তিনি খাবার সরবরাহের মতো কষ্টসাধ্য খণ্ডকালীন কাজও করছেন। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি কেবল মাথা উঁচু করে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে চান এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ যে বড় পরিবার ও পোষ্যদের তিনি পেয়েছেন, তাদের শেষ দিন পর্যন্ত আগলে রাখতে চান।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে ‘সেম বেড, ডিফারেন্ট ড্রিমস’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটেছিল কিম সে-ইনের। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে এসবিএসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ওহ মাই গড’-এ অংশ নিয়ে দর্শকদের মাঝে বেশ পরিচিতি লাভ করেন তিনি। তবে এর ঠিক দুই বছর পর ২০১৩ সালে হঠাৎ করেই চলচ্চিত্র ও বিনোদনজগৎ থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ান এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ এই বিরতির পর এবার নিজের জীবনের না বলা সংগ্রামের গল্প প্রকাশ্যে এনে আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি।
মন্তব্য করুন