হরর ঘরানার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘মিগান’-এর পথচলাটা বরাবরই বেশ অদ্ভুত। প্রথম সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে দারুণ সাফল্য পাওয়ার পর ব্লুমহাউস স্টুডিওস স্বাভাবিকভাবেই এর সিক্যুয়েল ও স্পিন-অফ নির্মাণের ঘোষণা দেয়। কিন্তু সিক্যুয়েলটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ার কারণে স্পিন-অফ সিনেমা ‘সোলমেট’ পড়েছিল অনিশ্চয়তার মুখে। এর মধ্যেই একই ধরনের প্লট নিয়ে ‘কম্পেনিয়ন’ বা ‘অবসেশন’-এর মতো চলচ্চিত্রগুলো মুক্তি পেয়ে সাফল্য অর্জন করে। অবশেষে সিনেমাটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরাসরি স্ট্রিমিং মুক্তি পেলেও প্রশ্ন থেকেই যায়, এত সব ঝামেলার পর এটি কি সত্যিই দেখার মতো কিছু হয়েছে?
সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ডেভিড নামের এক সদ্য স্ত্রীকে হারানো প্রকৌশলীকে ঘিরে, যিনি একটি টেক জায়ান্ট কোম্পানির তৈরি নতুন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যান্ড্রয়েড বা কমপ্যানিয়ন রোবট পরীক্ষা করার দায়িত্বে আছেন। ডেভিড যখন এআই রোবটটিকে আরও বেশি সংবেদশীল ও নিজের মনের মতো করে তৈরি করতে তার কোডিংয়ে পরিবর্তন আনেন, তখনই শুরু হয় বিপত্তি। রোবটটি তার প্রতি এক অসুস্থ ও বিপজ্জনক আচ্ছন্নতায় জড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় নির্ভুলভাবে পরিচালিত তাণ্ডব। যদিও প্লটের দিক থেকে অন্য কয়েকটি সাম্প্রতিক ছবির সঙ্গে এর মিল রয়েছে, তবুও ছবিটিকে শুধু তুলনা দিয়ে বিচার না করে স্বতন্ত্রভাবে দেখলে এর নিজস্ব কিছু ভালো দিক চোখে পড়ে।
ছবিটিতে ডেভিডের চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এমনভাবে, যেখানে তার অসহায়ত্ব দর্শকদের মনে সহানুভূতির জন্ম দেয়। বর্তমান সমাজের একা হয়ে পড়া ও এআইয়ের ওপর মানুষের মানসিক নির্ভরতার বাস্তব প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলার সুযোগ থাকলেও, পরিচালক সেই বিষয়টি দ্রুত পার করে গেছেন। এই ছবির আসল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলেন লিলি সুলিভান (সারা চরিত্রে), যিনি একজন অ্যান্ড্রয়েডের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এআই রোবটটি চারপাশের পৃথিবীকে বোঝার চেষ্টা করলেও তার আচরণে এক ধরণের সরল কৌতূহল রয়েছে। অনেক সাধারণ অভিনেত্রী হলে চরিত্রটিকে এক মাত্রিক খলনায়ক বানিয়ে ফেলতেন, কিন্তু লিলি সুলিভান তার অঙ্গভঙ্গি, শারীরিক ভাষা ও কন্ঠস্বরে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে সারা মূলত একটি রোবটই বটে।
তবে ছবিটির কিছু দুর্বল দিকও রয়েছে। এটিকে আর-রেটিং দেওয়া হলেও মূলত সহিংসতার চেয়ে নগ্নতার জন্যই এই রেটিং প্রযোজ্য। অনেক ক্ষেত্রেই মৃত্যুর দৃশ্যগুলো অফস্ক্রিন বা আড়ালে দেখানো হয়েছে, যা ছবির টানটান উত্তেজনা কিছুটা কমিয়ে দেয়। এছাড়া ওয়েলনেস ইনফ্লুয়েন্সারদের ভিডিও দেখে সারার নিজের ভেতর অদ্ভুত কমপ্লেক্স তৈরি হওয়ার বিষয়টি সমাজের ওপর চমৎকার এক সামাজিক ব্যঙ্গ বা কমেন্ট্রি ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় ছবিটি অতিরিক্ত বোঝানোর চেষ্টা করে এবং দর্শকদের নিজের বুদ্ধিমত্তায় কিছু বুঝে নেওয়ার সুযোগ দিতে চায় না।
সব মিলিয়ে, ‘মিগান’ ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্য যেকোনো এন্ট্রির চেয়ে এটি অনেক বেশি উপভোগ্য এবং এতে লিলি সুলিভান ও রাইসডালের অভিনয় বেশ প্রশংসনীয়। এটি কিছুটা অনুমানযোগ্য এবং অন্যান্য জনপ্রিয় রোবট থ্রিলার ছবির সঙ্গে তুলনা টানলেও, সামগ্রিকভাবে হররপ্রেমীদের নিরাশ করবে না।
মন্তব্য করুন