যোগদানের তারিখ প্রায় এক মাস এগিয়ে এনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নতুন সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর রাজধানী ঢাকার শাহবাগে চলা অবস্থান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। রোববার (২ আগস্ট) সকালে দ্রুত যোগদান ও পদায়নের দাবিতে শাহবাগে দিনভর বিক্ষোভ করার পর সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসায় তারা আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন।
রোববার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত নিয়োগপ্রার্থীরা জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ইতোপূর্বে আন্দোলন চলাকালে মারা যাওয়া সহকর্মীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে তাদের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা মাথায় লাল কাপড় বেঁধে দ্রুত পদায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এই বিক্ষোভের ফলে শাহবাগ থেকে টিএসসি অভিমুখী সড়কের একপাশে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যারিকেড ও জলকামান মোতায়েন করা হয়েছিল।
আন্দোলন চলাকালেই দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, পূর্বনির্ধারিত ২৯ অক্টোবরের পরিবর্তে আগামী ১ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিজ নিজ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন এবং ঠিক পরদিন অর্থাৎ ২ অক্টোবর তাদের পদায়ন সম্পন্ন হবে। এর আগে শনিবার সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বিভিন্ন তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত আনুষ্ঠানিকতার কারণে কিছুটা বিলম্বের কথা জানিয়ে যোগদানের তারিখ ২৯ অক্টোবর নির্ধারণ করেছিলেন, যা রোববারের নতুন সিদ্ধান্তে এক মাস এগিয়ে আনা হলো।
মন্ত্রণালয়ের এই প্রজ্ঞাপনটি দ্রুত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হওয়ার পর আন্দোলনকারী প্রার্থীরা সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান। এর ফলে তাদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় তারা শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে গুটিয়ে নেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। দীর্ঘ ১৭৫ দিনের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা শেষে অবশেষে তাদের কাঙ্ক্ষিত যোগদানের পথ সুগম হলো।
মন্তব্য করুন