বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের ৩-২ গোলের পরাজয় নিয়ে ফুটবল বিশ্বে বিতর্কের ঝড় যেন থামছেই না। এই বিতর্কের হাওয়া এবার পৌঁছেছে রাজনীতির ময়দানেও। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিশরের পরাজয় নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ম্যাচটিতে মিশর কেবল তাদের খেলার কারণে হারেনি, বরং রেফারি ও ম্যাচ পরিচালনাকারীদের ‘স্বজনপ্রীতি’ বা পক্ষপাতিত্বের শিকার হতে হয়েছে তাদের।
নিউইয়র্ক সিটিতে ‘নেক্সট স্টপ: বেটার বাসেস, ফাস্টার সার্ভিস’ নামক একটি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে মেয়র মামদানি তার দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার প্রসঙ্গ টেনে এনে ফুটবলের এই বিতর্কে যোগ দেন। তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, যাতায়াতের সময় বাঁচিয়ে মানুষ তাদের পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারবে বা বাচ্চার খেলা দেখতে পারবে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি রসিকতা ও ক্ষোভের মিশেলে বলেন, এই বেঁচে যাওয়া সময়ের মূল উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে একটি হলো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বসে এটি একমত হওয়া যে—গতকালের ম্যাচে মিশরকে অন্যায়ভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মেয়র মামদানির এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এল, যখন ম্যাচটির রেফারিং নিয়ে খোদ মিশরের ফুটবল ফেডারেশন এবং ভক্তরা ক্ষোভে উত্তাল। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিলেও, ম্যাচটিতে রেফারির বেশ কিছু সিদ্ধান্ত যেমন—ভিএআর ব্যবহার করে মিশরের গোল বাতিল করা এবং সালাহর পেনাল্টি আবেদন নাকচ করে দেওয়া, ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মিশরের খেলোয়াড়রা সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই ফলাফল সাজানো হয়েছে।
একজন মার্কিন রাজনীতিকের মুখে সরাসরি এমন অভিযোগ বিশ্বকাপের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নটিকে আরও জোরালো করেছে। যদিও ফিফার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে মাঠের বাইরে এই বিতর্কটি যে দীর্ঘদিন ফুটবল ভক্তদের আলোচনায় থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।
মন্তব্য করুন