আগামী মাসে নির্ধারিত ভারতের ছয় ম্যাচের সীমিত ওভারের ক্রিকেট সফর ঘিরে বর্তমানে নানামুখী জটিলতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সিরিজটি বাঁচাতে বাংলাদেশ সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এমনকি এই সংকট নিরসনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকদেরও সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত সিরিজে মোট তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। মূলত গত বছরের আগস্ট মাসেই এই সিরিজটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নির্ধারিত ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে ঢাকা ও নতুন দিল্লির মধ্যকার রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন ও তিক্ততা তৈরি হওয়ায় সিরিজটি স্থগিত হয়ে যায়। চলমান এই পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার রাতে দেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আমিনুল হক সংবাদমাধ্যমকে জানান যে ভারতের হাইকমিশনার সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথেও প্রতিমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তারা উভয়েই অত্যন্ত আশাবাদী যে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যে কূটনৈতিক দোটানা সৃষ্টি হয়েছিল, তা খুব দ্রুতই সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হবে। তিনি আরও যোগ করেন যে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার চলমান আলোচনার মাধ্যমেই এই ক্রিকেট সিরিজের জটিলতা সফলভাবে কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে তারা এখন পর্যন্ত অত্যন্ত আশাবাদী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের শীতলতা ও টানাপোড়েন বজায় রয়েছে। ওই গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত মিত্র দেশ হওয়ায় তিনি এখনও ভারতেই অবস্থান করছেন। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সরকার নিরাপত্তার জোরালো কারণ দেখিয়ে ভারতে জাতীয় দল পাঠাতে অপারগতা প্রকাশ করে। সেসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার অনুরোধ জানালে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। যার ফলে বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় এবং তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড দলকে প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিশ্বকাপ সংক্রান্ত সেই পুরনো জটিলতার রেশ টেনে ক্রীড়া উপদেষ্টা আমিনুল হক বলেন যে অতীতে সৃষ্ট সেই জটিলতা তারা এখন খুব দ্রুত সৌহার্দ্যপূর্ণ উপায়ে সমাধান করতে চান। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে খুব শীঘ্রই দুই দেশের মধ্যকার এই ক্রিকেটীয় বরফ গলবে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালে ভারত সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরে এসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করলেও ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিক বাংলাদেশের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ দল ভারত সফরে গিয়ে দুটি টেস্ট ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল, যেটিতে সব ফরম্যাটেই আধিপত্য বিস্তার করে জয় তুলে নিয়েছিল স্বাগতিক ভারত।
মন্তব্য করুন