বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অন্যতম আলোচিত মুখ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি হিসেবে শপথ নিলেও, তিনি কেন সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ গ্রহণ করেননি—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সামান্তা শারমিন এই বিষয়টিকে রাষ্ট্রের জন্য একটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছেন। সামান্তার মতে, একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য যখন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হতে অস্বীকৃতি জানান, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে যে, স্বতন্ত্র থাকার স্বাধীনতা রাষ্ট্রীয় নীতি বা নতুন কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কতটা কার্যকর বা যথেষ্ট।
সামান্তা শারমিন আরও গভীর এক রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অবতারণা করেছেন। তিনি মনে করেন, অতীতের নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সাহস না থাকলে বর্তমান নেতৃত্বকেও প্রশ্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো নন্দিত নেতাদের অবস্থানও এক সময় বাংলাদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল, যা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। এনসিপি নেত্রী মনে করেন, শুধুমাত্র পার্লামেন্টের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা বা সেখানে আমাদের কথা উপস্থাপনের আশায় বসে থাকা এখনকার সময়ের জন্য যথেষ্ট নয়।
সামান্তা শারমিনের বক্তব্যে সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতির সীমাবদ্ধতা ফুটে উঠেছে। তিনি মনে করেন, রুমিন ফারহানার মতো একজন নন্দিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যখন সংবিধান সংস্কারের মতো প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বিরত থাকেন, তখন রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর জনগণের যে প্রত্যাশা তা ধাক্কা খায়। পার্লামেন্টের স্বতঃস্ফূর্ততা ও দায়িত্বশীলতার জায়গায় ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সামান্তার দাবি, যদি আমরা বর্তমান সময়ের নেতৃত্বকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই, তবে আমাদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বিগত দিনের নেতৃত্বের ভুলগুলো নিয়েও নির্মোহ আলাপচারিতা শুরু করতে হবে। এই নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন রুমিন ফারহানার অবস্থান এবং সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া, যা আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
মন্তব্য করুন