যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা মিত্রদের সমস্ত সামরিক ও ভূরাজনৈতিক চাপকে সফলভাবে মোকাবিলা করে বিশ্বের দরবারে ইরান নিজেদের একটি অত্যন্ত ‘কঠোর ও অপরাজেয় শক্তি’ হিসেবে জোরালোভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গণমাধ্যম আল জাজিরার একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তার এই চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। একটি টেলিভিশন সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার সময় তিনি এই প্রশংসাবাণী বহুবার শুনেছেন। অন্যান্য দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাকে উদ্দেশ করে বলেছেন যে ইরানের নেতৃত্ব ও জনগণ মিলে বর্তমান সময়ে একপ্রকার ‘অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছেন’ এবং নিজেদের সাহসিকতা দিয়ে পুরো বিশ্বকে পুরোপুরি তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। মার্কিন আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশটির এই অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন।
আব্বাস আরাগচি তার বক্তব্যে আরও জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে ইরান যে ধরনের সুসংহত ও দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে, তা আন্তর্জাতিক মহলের কেউই কখনো তাত্ত্বিক বা বাস্তবিকভাবে কল্পনাও করতে পারেনি। বর্তমান এই জটিল সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক কাঠামোর পেছনে সরাসরি ইসরাইল, পুরো পশ্চিমা বিশ্ব এবং তাদের আরও বেশ কিছু সহযোগী দেশের সর্বাত্মক ও পূর্ণাঙ্গ সমর্থন ছিল বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। এত বিশাল পরাশক্তি এবং তাদের সম্মিলিত মিত্রদের শক্তির বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্নভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা কোনো সাধারণ বিষয় ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইরানের বর্তমান এই সাফল্য কেবল তাদের সামরিক সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি সমগ্র জাতির সম্মিলিত মানসিক দৃঢ়তা ও অদম্য জেদের একটি ঐতিহাসিক বিজয় বলে দেশটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন