ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বিএনপির অন্দরমহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন। আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে, যার ফলে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেত্রীদের তৎপরতায় সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। এই দৌড়ে মহিলা দলের পাশাপাশি সাবেক ছাত্রদল নেত্রীদের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে, রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহীনুর বেগম সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের দৌড়ে বেশ এগিয়ে রয়েছেন।
শাহীনুর বেগমের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ তিন দশকের ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল। ১৯৯৫ সালে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া এই নেত্রী ইডেন কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদকের পাশাপাশি ঢাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে কর্মরত। তাঁর এই দীর্ঘ পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না; ২০০৭ সালের সেনাশাসন থেকে শুরু করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল পর্যন্ত তিনি অসংখ্যবার হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন। এমনকি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর পরিবারকেও মিথ্যা হত্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়েছে।
বিগত বছরগুলোর প্রতিটি আন্দোলনে শাহীনুর বেগম ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। ২০১০ সালে খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের প্রতিবাদে কিংবা তারেক রহমানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মিছিল করতে গিয়ে তিনি বারবার পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০১৭ সালে খালেদা জিয়ার আদালত হাজিরাকে কেন্দ্র করে পুলিশের লাঠিপেটায় তাঁর ডান হাতের তিনটি আঙুল ভেঙে যায় এবং ২০১৮ সালের আন্দোলনের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এমনকি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও মিরপুর এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ত্যাগের এই দীর্ঘ খতিয়ানই তাঁকে আজ সংসদীয় মনোনয়নের আলোচনায় সামনের সারিতে নিয়ে এসেছে।
নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে অ্যাডভোকেট শাহীনুর বেগম বলেন, দুই যুগের বেশি সময় ধরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে রাজপথে লড়েছেন তিনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও দল তাঁকে সরাসরি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল, যদিও সেই ভোট কারচুপির কারণে সফল হতে পারেনি। নিজের পরিবার হারানোর বেদনা এবং ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তাঁর সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান অবশ্যই তাঁর দীর্ঘদিনের শ্রম ও বিশ্বস্ততার মূল্যায়ন করবেন।
মন্তব্য করুন