রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক জনসমাবেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা নিয়ে কড়া সমালোচনা ও সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। শনিবার বিকেলে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আগে যে দলীয়করণের সংস্কৃতি এবং দুর্নীতি আমরা দেখেছি, জুলাইয়ের পরেও তার রেশ রয়ে গেছে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটি থেকে শুরু করে টেন্ডারবাজি বা ইটের টাকা হাতিয়ে নেওয়া সবক্ষেত্রেই নতুন করে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সারজিস স্পষ্ট করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের পেছনে তারা রাজনীতি করতে আসেননি।
৫৩ বছরের পুরোনো ও জরাজীর্ণ সিস্টেমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই দীর্ঘদিনের পচা ব্যবস্থা দুই বছরে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে দেশের সচেতন নাগরিকরা যদি সতর্ক থাকেন, তবে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এই সিস্টেমের আমূল পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সারজিসের মতে, এই পরিবর্তনের সূচনা হতে হবে প্রতিটি মানুষের ঘর থেকে এবং দেশের গণমাধ্যম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে দলীয়করণ দূর করার মাধ্যমেই প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব।
গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে সারজিস আলম বলেন, মিডিয়াগুলোতে যখন সরকারদলীয় অনুসারীদের বসানো হয় এবং সংবাদমাধ্যম শুধুমাত্র প্রশংসার জায়গা হয়ে ওঠে, তখন প্রকৃত সমালোচনা বা সমস্যার চিত্র উঠে আসে না। ব্যবসা থেকে প্রশাসন সর্বত্র দলীয়করণের এই বিষবাষ্প দূর করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা আর কোনো ওসমান হাদিকে হারাতে চাই না। দেশজুড়ে একটা সত্যিকারের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে।
আগামী গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাচনে দলের প্রার্থী আতিকুর রহমানের পক্ষে সমর্থন চেয়ে সারজিস বলেন, সাধারণ মানুষের সন্তানরাই আজ রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হতে পারে। কৃষকের ঘরের সন্তানরা যদি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, তাহলে আতিক ভাইয়ের মতো সাধারণের প্রতিনিধিরাও উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে জনগণের সেবা করতে পারবেন। সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের আগে গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালিত হয়, যেখানে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা গেছে।
মন্তব্য করুন