কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, উৎপাদনমুখী দেশ গড়ার পরিবর্তে কার্ডের নামে বাড়ি বাড়ি বেকারত্বকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে এনসিপি নামের চারাগাছকে বৃক্ষে পরিণত করতে জনগণের সমর্থন চেয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, তারা কখনো জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না।
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী শাহজান কবীরের সভাপতিত্বে ওই পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
জনগণের সঙ্গে সৎ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাদের জন্য বিকল্প কোনো দেশ নেই এবং এত বিত্তবৈভবও নেই যে বিদেশে চলে যেতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করলে বঙ্গোপসাগরে ডুবে মরতে হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদের এই দেশের মানুষের সঙ্গেই থাকতে হবে। দেশের মালিকরা ভোট বিক্রির মাধ্যমে গোলামির শৃঙ্খলে আটকে যায় বলেই পাঁচ বছর ধরে তাদের ঘানি টানতে হয়—এই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দেন তিনি। তা সম্ভব হলে জনপ্রতিনিধিরা পাঁচ বছরের জন্য জনগণের প্রকৃত সেবকে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে রাজনীতিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোরালো গুরুত্ব আরোপ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, রাজপথে নারীদের কেবল ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হলেও নীতিনির্ধারণী বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তাদের বারবার উপেক্ষা করা হয়। অথচ দেশের প্রায় ৫১ শতাংশ নারী জনগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে কোনোভাবেই একটি সুষম ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়।
উক্ত পথসভায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম মিতু, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক এবং যশোর জেলা সমন্বয়কারী মো. নুরুজ্জামানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন