জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বিটমার্ট তাদের ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়ার (wind down) ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে নতুন রেজিস্ট্রেশন, ডিপোজিট এবং অর্ডার গ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে স্থগিত করা শুরু হয়েছে এবং আগামী ২৬ আগস্টের মধ্যে সব ধরনের ট্রেডিং পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্ল্যাটফর্মটির সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত শনিবার রাতে প্রকাশিত এক নোটিসে এক্সচেঞ্জটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান অপারেটিং পরিবেশ, বাজার পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত দিক পর্যালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টার দিকে (০১:০০ ইউটিসি) স্পট, ফিউচার্সসহ সব ধরনের ট্রেডিং সেবা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে ব্যবহারকারীরা এরপরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মে লগইন করে তাদের রেকর্ড দেখতে পারবেন এবং উইথড্রয়ালের অনুরোধ পাঠাতে পারবেন। ব্যবহারকারীদের ২৬ আগস্টের আগেই তাদের পজিশন বন্ধ করে উইথড্রয়াল সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পর এক্সচেঞ্জটির নিজস্ব টোকেন বিএমএক্স (BMX)-এর দাম একদিনেই প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে।
এদিকে বিটমার্টের গ্লোবাল সিইও নেন্টার (নাথান) চাও এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাকে আগাম কিছুই জানানো হয়নি। গত ২৪ জুলাই তাকে চাকরিচ্যুত করার কথা জানানোর পর থেকেই তিনি কোম্পানির কোনো ব্যবস্থাপনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন না। প্ল্যাটফর্মটি গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনিও সাধারণ মানুষের মতোই সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন বলে জানান। বর্তমানে তিনি কেবল ব্যবহারকারী ও কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে উল্লেখ করেছেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকেও ইতিবাচক ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ও অস্ট্রেলিয়ার লাইসেন্স পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আশার বাণী শুনিয়েছিল বিটমার্ট। ১৩ মিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম চালানো এই প্রতিষ্ঠানের হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত ক্রিপ্টো বাজারে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত কিছুদিন আগে বিটমেক্স এক্সচেঞ্জের স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার ঘোষণার পর এবার বিটমার্টের এই আকস্মিক বিদায়কে ক্রিপ্টো খাতের জন্য বড় একটি ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন