প্রয়াত বিএনপি নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে একটি অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একজন প্রয়াত ব্যক্তিত্বকে বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে চিঠি পাঠানোয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বজ্ঞান ও কাজের সমন্বয় নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।
আগামী ২০ জুন ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ‘সংসদ সদস্য’ পরিচয়ে আবদুল্লাহ আল নোমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অথচ তিনি ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে সেই চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তার ছেলে সাঈদ আল নোমান।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনের সময় নিজের ডেস্কে বাবার নামে পাঠানো এই আমন্ত্রণপত্র দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাঈদ আল নোমান। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসও দেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে সাঈদ আল নোমান লেখেন, এটি হয়তো প্রশাসনিক ভুল, তবে অনুভূতির জায়গা থেকে বিষয়টি ভিন্ন অর্থ বহন করে। তার ভাষায়, চিঠিটা দেখে মনে হয়েছে যেন জাতীয় সংসদ এখনও বিশ্বাস করে আবদুল্লাহ আল নোমান মানুষের স্মৃতি ও ভালোবাসার মধ্যেই বেঁচে আছেন।
আবেগঘন এই বার্তার পাশাপাশি ঘটনাটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যভান্ডার হালনাগাদ না থাকা এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার বড়সড় খামতিও সামনে এনেছে। বর্তমান সংসদ সদস্যদের তালিকাটুকু পর্যন্ত যাচাই না করে এভাবে চিঠি পাঠানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বাবার মৃত্যুর পর তার ছেলে সাঈদ আল নোমান চট্টগ্রাম ১০ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মন্তব্য করুন