মাদারীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পঁচা ও মানহীন টিফিন সরবরাহ করার মামলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই শীর্ষ অপারেশন কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. এলিয়াম হোসেন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। এর আগে সোমবার রাতে জেলা শহরের চাঁনমারি এলাকা থেকে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন— ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দোগাছিয়া গ্রামের মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে আহসানুল হাবিব (৫২) এবং বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাবর্তী শিবপুর এলাকার নুরুল ইসলাম খানের ছেলে নুরুজ্জামান খান (৪৪)। তারা দুজনেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাদ্য সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ‘সমতা ট্রেডার্স’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
মাদারীপুর সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরকারি ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পুষ্টিকর টিফিন (রুটি, কলা ও ডিম) সরবরাহ করে আসছিল সমতা ট্রেডার্স। এই খাদ্য সরবরাহের আড়ালে ঘটে যাওয়া অবহেলার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
শিক্ষার্থীদের অসুস্থতা ও আলামত জব্দ: গত ৮ এপ্রিল দুপুরে সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই টিফিন খাওয়ার পর মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বেশ কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবার রিপন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষাক্ত রুটি, কলা ও ডিম আলামত হিসেবে জব্দ করেন।
তদন্ত কমিটির সত্যতা লাভ: ঘটনার পরদিনই জেলা প্রশাসক মিজ মর্জিনা আক্তারের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহম্মেদকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সরজমিনে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পায়।
মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ: গণমাধ্যমে এই খবর তোলপাড় সৃষ্টি করলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তথা ফিডিং কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক হারুন অর রশীদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও নষ্ট খাবার সরবরাহের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করে।
খাদ্যে বিষক্রিয়া ও দায়িত্বহীনতার এই ঘটনায় গত ২৭ এপ্রিল সদর উপজেলার ১৬৫ নম্বর পোকরার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন চৌধুরী বাদী হয়ে সমতা ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে সমতা ট্রেডার্সের দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে থাকা মূল ঠিকাদার বা অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবং বাকি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন