নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ এবং মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ভিয়েতনামের জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভিয়েতনামের নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গতিশীল করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৯৭৩ সালে শুরু হওয়া দুই দেশের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বাণিজ্যের পাশাপাশি কানেক্টিভিটি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনার অন্যতম মূল বিষয় ছিল ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা জটিলতা এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। সালাহউদ্দিন আহমদ বৈধ বাংলাদেশি কর্মজীবী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি মানবপাচার, মাদক চোরাচালান ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদারের প্রস্তাব করেন।
দুই দেশের বাণিজ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এরই মধ্যে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে এবং প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট বা পিটিএ স্বাক্ষরিত হলে এই পরিমাণ দ্রুতই দ্বিগুণ হবে। তিনি বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির জন্য ভিয়েতনামকে ধন্যবাদ জানান এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ আমদানির প্রস্তাব দেন। এছাড়া বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে ভিয়েতনামের উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ আসিয়ান-এ সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়া এবং আরসিইপি-এর সদস্যপদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করে। ভিয়েতনামের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। দুই দেশের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে উভয় দেশ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
মন্তব্য করুন